দুজনে বেশ পুরনো বন্ধু। দুজনের জন্মটাও একই জায়গায়, স্পেনের বাস্ক দেশে। তাদের বন্ধুত্বের ছাপ দেখতে পারেন তাদের পোষাকের স্টাইলেও। খেয়াল করলে দেখবেন ডাগআউটে যখন অনেকেই পরে থাকেন ফরমাল স্যুট, সেখানে দুজনেই বেশিরভাগ সময়ে পরেন প্রায় এক ধরন ও রঙের সাদাসিধে জামা।
তবে সেসব মিল-অমিলের গল্প করার যেন আর ফুরসত নেই। শৈশবের সোনালী দিনগুলো একসঙ্গে পার করে আসা দুই বন্ধু এবার একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছেন ফুটবলের সবচেয়ে কঠিন ও রোমাঞ্চকর এক মঞ্চে। এমিরেটস স্টেডিয়ামে আজকের (রবিবার) এই লন্ডন ডার্বি তাই কেবল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনাল ও চেলসির লড়াই নয়, এটি মিকেল আর্তেতা ও জাবি আলোনসোর ভিন্ন দুই ফুটবল দর্শনের নিখুঁত এক সংঘাত।
লিগের প্রথম দুই ম্যাচে শতভাগ জয়ের ধারা বজায় রাখা দুই দলই আজ নিজেদের অপরাজিত রেকর্ড ও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে মাঠে নামছে। বয়সে দুজনেই ৪৪, খেলোয়াড়ি ও কোচিং ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে একসঙ্গে থাকলেও আজকের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে কোনো বন্ধুত্বের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
দুই দলের খেলার ধরনে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। আর্সেনালের রক্ষণভাগ কতটা দুর্ভেদ্য, তার প্রমাণ মেলে শেষ সাত লিগ ম্যাচের ছয়টিতে ক্লিন শিট এবং গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার দিকে গত দুই ম্যাচে মাত্র একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পরিসংখ্যানে।
অন্যদিকে, আলোনসোর ছোঁয়ায় চেলসি হয়ে উঠেছে আরও বেশি গতিময় ও ধারালো। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল হজম করলেও প্রতিপক্ষের জালে তারা বল জড়িয়েছে সাতবার। ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ২৬ শতাংশ বল দখলে রেখেও কাউন্টার অ্যাটাকের দুর্দান্ত প্রদর্শনী দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছে ব্লুজরা, যা গানার্সদের রক্ষণভাগের জন্য বড় এক সতর্কতা। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে চেলসি বেশ পিছিয়ে রয়েছে; শেষ ১১ ম্যাচে আর্সেনালের বিপক্ষে কোনো জয় নেই তাদের।
ম্যাচের আগে বন্ধু ও প্রতিপক্ষ আলোনসোকে নিয়ে আর্সেনাল কোচ আর্তেতা সংবাদমাধ্যমকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি তার জন্য সত্যিই খুব খুশি। এটা দারুণ এক ব্যাপার, কারণ আমাদের একসাথে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই পর্যায়ে মুখোমুখি হওয়া এবং দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে লড়া সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’
প্রতিপক্ষের কৌশল ও ম্যাচের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আর্সেনাল কোচ আরও যোগ করেন, ‘গেম স্টেট খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়, বিশেষ করে তাদের আগের দুই ম্যাচে তারা খুব দ্রুত গোল পেয়ে ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে দিয়েছিল। তবে সে বিভিন্ন উপায়ে দল পরিচালনা করতে সক্ষম এবং সে এখন পর্যন্ত একজন অত্যন্ত সফল ম্যানেজার।’
দুই বন্ধুর এই ট্যাকটিক্যাল দ্বৈরথ, নিখুঁত ফুটবল দর্শনের লড়াই এবং মাঠের স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত কোন বন্ধুকে হাসাবে এবং কার জয়রথ থামবে, সেটিই দেখায় অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।