মসজিদ নিয়ে বিরোধ গড়াল সংঘর্ষে, আহত ৯

মসজিদের উন্নয়ন তহবিল নিয়ে বাদানুবাদের জেরে থমথমে পরিস্থিতিতে ৫০-৬০ জনের দলবল নিয়ে হামলা; ইট-পাটকেল ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১ জন রাজশাহী মেডিকেলে স্থানান্তরিত।

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

নাটোরের লালপুরে মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে স্থানীয় দুটি পক্ষ। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া কারিগরপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৮ থেকে ৯ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কারিগরপাড়া জামে মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রমের হিসাব ও পরিচালনা নিয়ে আফসার আলী গ্রুপ এবং মসজিদ কমিটির রফিকুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। সেসময় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে ওই বিরোধের সূত্র ধরে রবিবার সন্ধ্যার পর এলাকাটিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আড়বাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাল মেম্বারের ছেলে কালুর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আফসার আলীর সমর্থনে কচুয়া বাজার এলাকা থেকে এসে কারিগরপাড়ায় অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে কথা-কাটাকাটির পর তা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে দু'পক্ষের মধ্যে তীব্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

এতে অন্তত ৯ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা হলেন- কচুয়া গ্রামের মিজানুর রহমান কালু (৪২), তার দুই ছেলে মুন্না (১৮) ও শুভ (২৯), মাহমুদুল হাসান (১৪), চম্পা (৩৫), বড় শেরপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩৮), কেশববাড়িয়া গ্রামের বনি আমিন (২১), মাহাতাব হোসেন (৩৮) এবং হাঁসবারিয়া গ্রামের মাসুদ রানা (৪৫)।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও মাসুদ রানা নামে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সংঘর্ষের বার্তা পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বর্তমানে এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালপুর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মসজিদের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিরোধেই এই সংঘর্ষ ঘটে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত