এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মরদেহ উদ্ধারের মামলায় দুজনের স্বীকারোক্তি

গ্রামের জমির পাঁচ লাখ টাকাসহ রওনা দেওয়া ইসমাইলের লাশ মিলল এক্সপ্রেসওয়েতে; শরীরে জখম ও মুখে স্কচটেপ পেঁচানো হলেও গায়েব সঙ্গে থাকা যাবতীয় টাকা-পয়সা।

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় বাসের সুপারভাইজার সাজু লস্কর ও হেলপার মাহবুব আলম মনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় বাসচালক সোহেল রানার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম তালুকদার আদালতে আবেদন করেন, আসামি সাজু লস্কর ও মাহবুব আলম মনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করা হোক।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর আসামি সাজু লস্করের এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ আসামি মাহবুব আলম মনির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে একই তদন্ত কর্মকর্তা বাসচালক সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার ছেলে মো. হাসান বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুর থেকে গাজীপুরের বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন ইসমাইল হোসেন। এ সময় গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা নগদ এবং বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য সঙ্গে নিয়ে তিনি বাসে ওঠেন।

বাবার আসার খবর পেয়ে মো. হাসান গাজীপুরের জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে থাকেন। তবে বাবার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করে সেটি বন্ধ পান। সকাল ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর তিনি বাসায় ফিরে যান।

পরে দুপুর ১২টার দিকে বনানী থানা থেকে প্রতিবেশী মন্টুকে ফোন করে জানানো হয়, ইসমাইল হোসেনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এরপর মরদেহের ছবি দেখে বাবাকে শনাক্ত করেন হাসান।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বনানী থানাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী থেকে কুড়িলগামী অংশে ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে ইসমাইল হোসেনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে তার সঙ্গে থাকা পাঁচ লাখ টাকা ও গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা কোনো মালামাল পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ইসমাইলের শরীরে জখমের চিহ্ন ছিল। তার নাক, মাথা ও ডান হাতের কব্জি সাদা স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত