নিরাপদ খাদ্য আইন: আগস্ট মাসে ১ কোটি টাকা জরিমানা, ৫০ মামলা

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আগস্ট মাসে নিরাপদ খাদ্য আইনে মোট ১ কোটি টাকা জরিমানা করেছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় ২৫টি অভিযানের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০টি মামলা করা হয়।

ঢাকা মহানগর ছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৯টি অভিযানের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য আইনে ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩১টি মামলা দায়ের করা হয়।

এছাড়া বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ৪২ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ৯টি মামলা করা হয়। সব মিলিয়ে আগস্ট মাসে ৫৯টি অভিযানের মাধ্যমে মোট ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৫০টি মামলা করা হয়। একই সময় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ১১৯৮টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করা হয় এবং ১৩টি রপ্তানিযোগ্য পণ্যের স্বাস্থ্যসনদ প্রদান করেছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসনাতের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।  

এতে জানানো হয়, গত ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে সব মিলিয়ে ৭ প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৭টি মামলা করা হয়েছে।
ওই সময় (৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর বাস্তবায়নে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ৫ প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনিবন্ধিত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা, নকল পণ্য উৎপাদন, পচা-বাসী খাবার বিক্রি করা এবং ট্রেড লাইসেন্স ও বিএসটিআই প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়া প্রভৃতি অপরাধের কারণে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সাতদিনে চট্টগ্রাম, সিলেট ও লহ্মীপুর জেলার মোট ৪ প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি এর ব্যবহার, বিরিয়ারীতে কেওড়াজলের ব্যবহার, অনুমোদনহীন রং এর ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন করা, পোড়াতেলের ব্যবহার প্রভৃতি কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুসারে ওই ৪ প্রতিষ্ঠানে মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপদ নিশ্চিতে সারা দেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৩৭ খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং পরিচালনা করা হয়। মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এছাড়া নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বহুমুখী প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব প্রচারণার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তার করণীয় বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। উক্ত সময়ে সচেতনতামূলক টিভিসি বাংলাদেশ টেলিভিশনে টিভিসি প্রচারের পাশাপাশি স্ক্রলবার্তাও প্রচার করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত