আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলাসহ যেসব মামলার রায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ প্রদান করা হয়েছে, সেই রায়গুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে—সে প্রক্রিয়াটি আরও স্পষ্ট করতে ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ বা কার্যপ্রণালী বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, এই বিধি সংশোধন করা হলে তা শেখ হাসিনার মামলাসহ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া অন্যান্য মামলার রায়ের ক্ষেত্রেও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ইতোমধ্যে যেসব মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে, কার্যপ্রণালী বিধি সংশোধিত হলে রেট্রোস্পেক্টিভ ইফেক্ট বা ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতার মাধ্যমে সেই রায়েও একই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা যাবে। এতে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা বাধা নেই। বর্তমান আইনে এবং রুলস অব প্রসিডিউরে কোনো অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ বা অর্থদণ্ড আরোপের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধানও সেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা অন্যান্য দণ্ডমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে, তা বর্তমান কার্যপ্রণালী বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই।
এই আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল-২-এর একটি মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আদালতের গোচরীভূত করা হয়েছে বলে জানান এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। ভবিষ্যতে যেসব মামলার রায় ঘোষণা করা হবে, সেখানে যেন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্ষতিপূরণ আদায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকে, সে বিষয়ে জোর দেন তিনি।
এক্ষেত্রে প্রচলিত ‘পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট’ কিংবা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারায় বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি ও জরিমানা আদায়ের যে পদ্ধতি রয়েছে, তা অনুসরণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রায়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাপেক্ষে (মিউটেটিস মিউটেন্ডিস) যদি এই আইনগুলোর রেফারেন্স উল্লেখ থাকে, তবে সরকারের পক্ষে তা বাস্তবায়ন করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করেন চিফ প্রসিকিউটর।
এর বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ট্রাইব্যুনালের রুলস অব প্রসিডিউর বা কার্যপ্রণালী বিধির সংশ্লিষ্ট ধারাটি সংশোধনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। আমিনুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট বিধিটি সংশোধন করে সেখানে বিস্তারিত প্রক্রিয়া ও বিধান যুক্ত করতে হবে। এর ফলে ট্রাইব্যুনালের রায়গুলো যখন সরকার বাস্তবায়ন করতে যাবে, তখন বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্পষ্ট আইনি ধারণা থাকবে এবং কাজটি সম্পন্ন করা সহজতর হবে।
এরইমধ্যে বিধি সংশোধনের এই প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘একটি মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আমি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতের নজরে এনেছিলাম। মাননীয় বিচারপতিগণ আমার উপস্থাপনার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শও দিয়েছেন। তবে ব্যস্ততা ও সময়ের স্বল্পতার কারণে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এখনও সুনির্দিষ্টভাবে এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।’ এই আইনি জটিলতা ও সমস্যা নিরসনে একটি বিশেষ সেমিনার আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
তার মতে, দুটি ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারপতিদের নিয়ে একটি যৌথ সেমিনার আয়োজন করা যেতে পারে। সেই সেমিনারে বিদ্যমান আইনের বিভিন্ন ত্রুটি, সুবিধা ও অসুবিধাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলে বিধি সংশোধনের কাজটি বিচারপতিদের জন্য আরও সহজ হবে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া না গেলেও, ট্রাইব্যুনাল নিজে থেকেও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এমন সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে বলে মতামত ব্যক্ত করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর।
শেখ হাসিনা-রেহানার নামে দুদকের মামলা
শেখ হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন জানে না বাংলাদেশ
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে