চিফ প্রসিকিউটর

শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন জানে না বাংলাদেশ

রাজনৈতিক আশ্রয় নাকি অন্য কোনো প্রক্রিয়া—ভারতে শেখ হাসিনা ঠিক কী স্ট্যাটাসে আছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয় বাংলাদেশের কাছে।

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান আইনি অবস্থান সম্পর্কে বাংলাদেশ এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়ায় দণ্ডিত হয়েছেন। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে। তাকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন কি না, কিংবা তিনি অন্য কোনো স্ট্যাটাসে রয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তাই শুধু ওই খবরের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা আইনি অবস্থানে রয়েছেন, সেটি বাংলাদেশ এখনো নিশ্চিতভাবে জানে না। এ কারণে ভারতীয় আদালতের অনুমতির বিষয়টি প্রতিবেদনে ঠিক কী অর্থে বলা হয়েছে, সেটিও বাংলাদেশের কাছে স্পষ্ট নয়।

এ সময় সাংবাদিকেরা ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থানের ঘটনা তুলে ধরে জানতে চান, তার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো আইনি যোগসূত্র আছে কি না। জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দুটি ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা এবং একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো সম্পর্ক নেই।

সালাহউদ্দিন আহমেদের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে তাকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের শিলংয়ে তার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় তিনি খালাস পান। এরপর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান আমিনুল ইসলাম।

তার ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনে আসামিদের ভূমিকার কারণে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব ঘটনার জন্য আসামিদের দায় বহন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলেও প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত