মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তার এআই কি এসে গেছে?

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২১ পিএম

ওপেনএআইয়ের নতুন ও সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল অ্যাস্ট্রা উন্মোচনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির দলকে অভিনন্দন জানান চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, 'চ্যাটজিপিটি থেকে ও১, এরপর অ্যাস্ট্রা, মাত্র ৪ বছরে। এজিআই এসে গেছে। অভিনন্দন ওপেনএআই দলকে।' হুয়াং আরও জানিয়েছেন, অ্যাস্ট্রাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এনভিডিয়ার তৈরি চিপ ব্যবহার করে। খবর বিজনেস ইনসাইডার এর।  

এজিআই বা আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স বলতে এমন এক ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বোঝানো হয়, যা মানুষের মতো বিস্তৃত পরিসরের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ বুঝতে, শিখতে এবং সম্পাদন করতে সক্ষম। অর্থাৎ, এটি শুধু নির্দিষ্ট কোনো একটি কাজে দক্ষ হবে না; বরং মানুষের মতো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধান, নতুন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়া এবং এক ক্ষেত্র থেকে অর্জিত জ্ঞান অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার সক্ষমতা রাখবে।

এজিআই এর ধারণার সঙ্গে সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক যুক্তিবোধও জড়িত। একটি এজিআই ব্যবস্থা বিশ্বের বিভিন্ন তথ্য, সম্পর্ক ও সামাজিক নিয়ম সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা ব্যবহার করে যুক্তি প্রয়োগ ও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে ধারণা করা হয়। এজিআই তৈরির গবেষণায় কম্পিউটার বিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান ও কগনিটিভ সাইকোলজিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমন্বিত কাজ চলছে। তবে এখনো এজিআই মূলত একটি গবেষণার লক্ষ্য ও ধারণা হিসেবেই বিবেচিত হয়।

বৃহস্পতিবার অ্যাস্ট্রা উন্মোচন করে ওপেনএআই। চ্যাটজিপিটি-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি অ্যাস্ট্রাকে বিশ্বের 'সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও সুনিয়ন্ত্রিত মডেল' হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, অ্যাস্ট্রা নজিরবিহীন গতি, নির্ভুলতা ও বিচারবোধের সঙ্গে 'সবচেয়ে কঠিন পেশাগত কাজ' সম্পাদন করতে সক্ষম। 

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ফোনালাপে ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান বলেন, 'এজিআই যুগে স্বাগতম।' এজিআই বা আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ধারণাটি এখনো পুরোপুরি নির্দিষ্ট নয়। তারপরও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই  গবেষণাগারগুলোর জন্য এটি অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
 
ওপেনএআই এজিআই-কে এমন 'উচ্চমাত্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, যা অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান অধিকাংশ কাজে মানুষের চেয়ে ভালো করতে সক্ষম। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অ্যাস্ট্রা একটি বড় ধরনের গবেষণা সাফল্য এবং এর মাধ্যমে এআই -কে কোন কোন কাজ অর্পণ করা সম্ভব, সেই সীমারেখায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। চলতি সপ্তাহেই গ্রাহকদের জন্য অ্যাস্ট্রা উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবারের ফোনালাপে ব্রকম্যান বলেন, ভবিষ্যতে মানুষ হয়তো পেছন ফিরে মনে করবে যে এই সময়ের কাছাকাছিই এজিআই তৈরি হয়েছিল এবং সেটি হয়তো এই মডেলই ছিল। 'ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আমরা সেখানে পৌঁছে গেছি,' বলেন তিনি।  

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত