উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার আওতায় আসবে বিপুল জনগোষ্ঠী: ববি হাজ্জাজ

‘একজন শিশু শুধু শিক্ষিত হবে না, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে ভবিষ্যতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে—এটাই লক্ষ্য।’

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

দেশে এখনো প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ সাক্ষরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, দেশে এখনো বিপুল জনগোষ্ঠী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরতা ও কার্যকর শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও ফলাফলভিত্তিক করতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সকল শিশু বিদ্যালয়ে থাকবে, প্রত্যেক শিশু নৈতিকতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা পাবে এবং এমন দক্ষতা অর্জন করবে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রয়েছে। তাই সংখ্যার বিচারে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোকে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। চলমান কার্যক্রম আরও ফলাফলমুখী করার পাশাপাশি প্রকল্পগুলোর রিস্কোপিং, রিডিজাইনিং ও রিফোকাসিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অত্যন্ত পরিষ্কার—কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশু সঠিক শিক্ষা পাবে। এই শিক্ষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নৈতিকতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা। একজন শিশু শুধু শিক্ষিত হবে না, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে ভবিষ্যতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে—এটাই লক্ষ্য।

শিক্ষা খাতে বাজেটের বড় অংশ গুণগত মান উন্নয়ন, শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, সাক্ষরতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে ব্যয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা খাতে বাজেট নয়; বাজেটের প্রতিটি টাকা মানুষের সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহার করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করাই যথেষ্ট নয়। মানুষকে এমন শিক্ষা দিতে হবে, যা তার জীবনমান উন্নত করবে, মূল্যবোধ তৈরি করবে এবং কর্মজীবনে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা তৈরি করবে।

ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৬৭ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিনটি পালিত হয়ে আসছে। সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত