ভাইভা নম্বর বৃদ্ধিকে চাকরির ‘নব্য কোটা’ আখ্যা দিল ডাকসু

ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টির প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম

সরকারি চাকরির ১১–২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এতে ভাইভায় বেশি মার্ক বাড়ানোর বিষয়টিকে ‘নব্য কোটা’ আখ্যায়িত করে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এতে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ ডাকসুর নেতাকর্মী ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, দলের লোকে চাকরি পায়’, ‘ভাইভার নামে দলীয়করণ, মানি না মানব না’, ‘দিকে দিকে খবর দে, ভাইভা কোটার কবর দে’, ‘নব্য কোটার নাম কী, ভাইভা ছাড়া আর কী?’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘নিয়োগ বাণিজ্যের অপর নাম, ভাইভায় বেশি মার্ক’ এবং ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, চাকরি হয় পয়সায়’ বলেও স্লোগান দেন।

এর আগে রাত পৌনে ৮টার দিকে নিজের ফেসবুক পোস্টে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টির প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরির ১১–২০ গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য নতুন পরীক্ষার মানবণ্টনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, ১১–১২ গ্রেডে ১০০ নম্বরের লিখিত ও ৫০ নম্বরের মৌখিক, ১৩–১৬ গ্রেডে ৬০ নম্বরের লিখিত ও ৪০ নম্বরের মৌখিক এবং ১৭–২০ গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় ২৫ নম্বর করে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে অসদুপায় ঠেকাতে নতুন মানবণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞদের একাংশের অভিযোগ, ভাইভার নম্বর বাড়ালে নিয়োগে অনিয়ম, দলীয়করণ ও পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে একই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাক দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সজিবুর রহমান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে রাতে রাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত