সৌদি-হুতি সংঘাতের মাত্রা বাড়ছে

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ এএম

ইরান যুদ্ধের সমান্তরালে পশ্চিম এশিয়ায় আরও একটি সংঘাতের আগুন উসকে উঠেছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা অঞ্চলটিকে চূড়ান্ত অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার শঙ্কা বাড়াচ্ছে। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তির আওতায় পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ রেখেছিল উভয় পক্ষই। তবে সম্প্রতি দুই পক্ষ ফের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবের দক্ষিণে একাধিক জ্বালানি অবকাঠামো ও স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ সব হামলায় ৭০ জনেরও বেশি আহত ও বেশ কয়েকটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর দিয়েছে। হুতিদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ জানিয়েছে, ইয়েমেনি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শত্রুদেশ সৌদির ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। পৃথক আরেকটি পোস্টে আনসারুল্লাহ জানায়, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আবহা ও জিজানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা। জিজান সৌদি আরবের ইয়েমেন সীমান্তের সবচেয়ে কাছের শিল্পনগরী। অতীতেও শহরটিতে কয়েকবার হামলা চালিয়েছিল ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এ ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’কে নিবৃত্ত করতে জোট প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে এবং তাদের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হুতিরা আবহা, খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি, জাজান ও নাজরান শহরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের একের পর এক হামলার জবাবে সুনির্দিষ্টভাবে দেশটির অর্থনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনে সৌদি আরব ১২০টির বেশি হামলার চালিয়েছে।

হুতি-সমর্থিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন জানায়, তায়েজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় সৌদি আরব ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে। ওই এলাকায় কয়েক দিন ধরে লড়াই চলছে।

এ ছাড়া মারিব, আল-বাইদা, হোদেইদাহ ও আল-জাউফ প্রদেশে হামলা হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে গোষ্ঠীটি। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ তারা সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দফা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল, রাজধানী সানাসহ দেশটির সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলো হুতিদের নিয়ন্ত্রণে আছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল কার্যকরভাবে সীমিত করে দেওয়ার পর হুতিদের কারণে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘœ ঘটতে থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সানা পুনরুদ্ধারের ঘোষণা ইয়েমেনি বাহিনীর : ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী রাজধানী সানা পুনর্দখলের ঘোষণা দিয়ে ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, তারা হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি স্থল সেনাদের ‘তীব্র লড়াই’ চলার খবর জানিয়েছে। তবে হুতিরা দাবি করেছে, তারা আল-জাউফে সরকারি বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করেছে। তবে আল-হাজম শহরের এক কারাগারে বিমান হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, নতুন সংঘাতের মুখে প্রায় ২০ হাজার ইয়েমিন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে ইয়েমেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সমীর আল-সাবরি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, সরকার ‘সানা পুনরুদ্ধারের’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আল-নুজাইলি জানান, এই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হুতিদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা এবং সানাকে আবার সব ইয়েমেনির রাজধানী হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত