মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পরও বন্ধ হয়নি দুই ভুয়া কলেজ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ এএম

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ শাখা থেকে গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা এক পত্রে সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার সড়কের বাজারে অবস্থিত ‘সড়কের বাজার ইউনাইটেড কলেজ’ ও ‘সড়কের বাজার মহিলা কলেজ’ নামের দুটি অনুমোদনহীন কলেজ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া সনদ সৃষ্টির অভিযোগে সড়কের বাজার মহিলা কলেজের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেট, উক্ত দুইটি অনুমোদনহীন কলেজে ভর্তি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পত্র প্রেরণ করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৩ নম্বর দীঘিরপাড় ইউনিয়নের একটি এমপিওভুক্ত কলেজের আধা কিলোমিটারের মধ্যে ১০০ গজের ব্যবধানে দুইটি বাণিজ্যিক ভবনের কক্ষ ভাড়া নিয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ব্যতীত সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সাইনবোর্ডসর্বস্ব দুইটি কলেজ বিগত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে একাদশ শ্রেণিতে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ওই দুটি কলেজের মধ্যে সড়কের বাজার ইউনাইটেড কলেজে ভর্তিকৃত মানবিক শাখার ১৮ শিক্ষার্থীকে পার্শ্ববর্তী উপজেলার শাহবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বশির আহমদ (সড়কের বাজার ইউনাইটেড কলেজের সভাপতি) তার কর্মস্থল শাহবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবং বিজ্ঞান শাখার ২১ শিক্ষার্থীকে কানাইঘাট সরকারি কলেজের প্রভাষক শিহাব উদ্দিন (সড়কের বাজার ইউনাইটেড কলেজের পরিচালক) তার কর্মস্থল কানাইঘাট সরকারি কলেজে অনলাইনে জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। অপরদিকে সড়কের বাজার মহিলা কলেজে মানবিক শাখায় ভর্তিকৃত ২৩ শিক্ষার্থীকে পার্শ্ববর্তী চড়িপাড়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শানুর মিয়া অর্থের বিনিময়ে তার নিজ প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে এবং বিজ্ঞান শাখায় ভর্তিকৃত ৮ শিক্ষার্থীকে গাছবাড়ি আইডিয়াল কলেজের আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক রোমেন আহমদ অর্থের বিনিময়ে তার নিজ প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।

চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালার ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অনুমতি বা স্বীকৃতিবিহীন কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তি নিষিদ্ধ। এমনকি স্থাপনের অনুমতি থাকলেও পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি না থাকলে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যাবে না। জানা গেছে যে, এই ২টি কলেজের পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি নেই, তবুও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উল্লেখিত ২টি সাইনবোর্ডসর্বস্ব অনুমতিবিহীন ভুয়া কলেজ এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়ে, ভর্তি ফি মওকুফের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে।

কলেজের অধ্যক্ষ মঈনুল হক চৌধুরী বলেন, কলেজ খোলা কিংবা প্রশাসনিক বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার কাজ ক্লাস নেওয়া ও যাতে ক্লাস ঠিকমতো হয় সেটা দেখা। বাকি বিষয় কলেজের সভাপতি দেখেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ২টি কলেজের মধ্যে স্থাপনের অনুমতির জন্য সড়কের বাজার ইউনাইটেড কলেজ আজোবধি সিলেট শিক্ষা বোর্ডে কোনো আবেদনই করেনি। সড়কের বাজার মহিলা কলেজ স্থাপনের অনুমতির জন্য সিলেট শিক্ষা বোর্ড বরাবর আবেদন করলে ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে শিক্ষা বোর্ড কর্র্তৃপক্ষ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিক মহাবিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রযোজ্য শর্তসমূহ পূরণ না হওয়ায় তাদের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়কের বাজার মহিলা কলেজের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পরিসংখ্যান কর্মকর্তার দুইটি সনদ সৃষ্টি করে কলেজের আবেদনের সঙ্গে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে জমা দেন। এই ধরনের ভয়াবহ জালিয়াতির কারণে তাদের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। কলেজ স্থাপনের আবেদন নামঞ্জুর হয়ে গেলেও ওই ২টি ভুয়া কলেজের পরিচালকরা এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির চেষ্টা করা যাচ্ছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত এই ধরনের অনুমোদনহীন ভুয়া প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শঙ্কা হচ্ছে যে, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কলেজের সভাপতি প্রথমে নিজের পরিচয় স্বীকার করলেও সাংবাদিক পরিচয় দিলে রং নম্বর বলে ফোন বন্ধ করে দেন।

জানতে চাইলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শহীদুল আলম বলেন, দ্রুত এই দুটি কলেজ বন্ধের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত