প্রকাশ হল এপস্টিন মামলার প্রধান বাদীর পরিচয়

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ এএম

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে ব্যাংক অব আমেরিকার বিরুদ্ধে করা ৭ কোটি ২৫ লাখ ডলারের মামলার অন্যতম প্রধান বাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন শুধু ‘জেন ডো’ নামে। এবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছে তার পরিচয় ও ছবি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক নতুন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, ওই নারী হলেন ৩৭ বছর বয়সী জুলিয়া মলচানোভা। প্রতিবেদনে তিনি বর্ণনা করেছেন, মাত্র ২২ বছর বয়সে কীভাবে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং কীভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

২০১১ সালে নিউইয়র্কের একটি রাস্তায় এপস্টেইনের সঙ্গে আকস্মিকভাবে পরিচয় হয় রাশিয়ার তরুণ ডিজাইন শিক্ষার্থী মলচানোভার। তখন তিনি খুব সামান্য ইংরেজি জানতেন। এপস্টেইন তাকে নিউইয়র্কের ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ভর্তি হতে সাহায্য করার প্রস্তাব দেন।

মলচানোভার দাবি, সেই প্রস্তাবের আড়ালেই শুরু হয় তার ওপর যৌন নির্যাতন এবং এমন এক দুঃস্বপ্ন, যা তার জীবনের বহু বছরকে গ্রাস করে নেয়। 

মলচানোভার অভিযোগ, এপস্টেইন তার পোশাক, চুল কতটা লম্বা রাখবেন, কোন চিকিৎসকের কাছে যাবেন, কার সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং কীভাবে অর্থ খরচ করবেন—এসব বিষয় পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করতেন। এমনকি তার অজান্তে একটি কোম্পানি তার নামে খোলা হয়েছিল এবং সেই কোম্পানির মাধ্যমে এমন সব আর্থিক লেনদেন করা হয়, যেগুলো সম্পর্কে তিনি কিছুই বুঝতেন না বলে দাবি করেছেন।

পরবর্তী সময়ে মলচানোভা ‘জেন ডো’ নামে একটি শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার প্রধান বাদী হন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, এপস্টেইনের যৌন পাচার কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত আর্থিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সতর্কসংকেত থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক অব আমেরিকা জেনেশুনে তাকে সহযোগিতা করেছিল।

ব্যাংক অব আমেরিকা কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে ৭ কোটি ২৫ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয় ব্যাংকটি। এই অর্থ এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার কয়েক ডজন ব্যক্তির মধ্যে বিতরণ করা হবে।

মলচানোভা এপস্টেইনকে দীর্ঘদিন ধরে আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তার ভাষ্য, এপস্টেইন এর আগেও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নির্যাতনের ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তারপরও তিনি বাইরে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত আরও নারীর জীবনে ঢুকে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মলচানোভা বলেন, ‘লোকটির জেলে থাকার কথা ছিল। আমাদের ব্যর্থ করেছে পুরো ব্যবস্থাই।’

এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের জন্য ৭ কোটি ২৫ লাখ ডলারের এই নিষ্পত্তি একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অর্থ দিয়ে নিষ্পত্তি হলেও আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ভয়াবহ যৌন পাচার কেলেঙ্কারিকে ঘিরে থাকা সব প্রশ্নের উত্তর মেলে না। কীভাবে বিপুল অর্থ ও প্রভাবের অধিকারী একজন অভিযুক্ত যৌন অপরাধী এত দীর্ঘ সময় ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন, সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে।

মলচানোভার গল্প সেই কেলেঙ্কারির পেছনে থাকা মানবিক ট্র্যাজেডিটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। একজন তরুণী, যিনি অভিযোগ করেছেন এপস্টেইন তার শরীর, অর্থ ও জীবন নিয়ন্ত্রণ করতেন; এমনকি একপর্যায়ে তার ডাকে সাড়া দিতে গেলেই নিজের জীবন বিপন্ন হতে পারে বলে ভয় পেয়েছিলেন তিনি।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত