ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূৰ্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। পাঁচ বছর আগেই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে সেখানেই ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া এবং দেয়াল-টিনের জরাজীর্ণ অবস্থায় প্ৰতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে শিশুরা। ঝড়বৃষ্টি হলে সেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছ, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরনো ভবনটি খুবই বঝুঁকিপূর্ণ। ভবনটি ৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বুঁকিপূৰ্ণ ঘোষণা করে। বর্তমানে ভবনটির পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে পড়ে গেছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, আবার কোথাও টিন ও কাঠ খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলে ভবনের চালা চুইয়ে পানি পড়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। যেকোনো সময় সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে ১৯৩১ সালে হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে একজন প্রধান শিক্ষক ও পাঁচজন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। প্রাক-প্ৰাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২২৭ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করানো হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কৰ্মসূচির আওতায় ২০০৫ সালে এখানে কক্ষের একটি ছোট ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য সেই ভবনটি পর্যাপ্ত নয়। শিক্ষার্থী বেশি থাকায় পুরনো ভবনের কক্ষও ব্যবহার করা হচ্ছে।
শিক্ষকরা জানান, শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতার কারণে নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একটি শ্রেণিতে পাঠদান চলার সময় বারান্দায় থাকা শিক্ষার্থীদের শব্দে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হয়। আবার বৃষ্টি, রোদ কিংবা শীতের সময় বারান্দায় ক্লাস নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাত শ্রেণিকক্ষ বাড়েনি। নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও মেলেনি প্রতিকার।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনের সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেও কবে নাগাদ স্থায়ী সমাধান হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, 'নতুন ভবন নিৰ্মাণ ও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত আকারে তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।'
এব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আশিক্র রহমান ভূঞা বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনটি অনেক আগেই ঝঁকিপূর্ণ দেখানো হয়েছে। তাই আপাতত বিদ্যালয়ে একটি অস্থায়ী টিনশেড ঘর নিৰ্মাণ করা যায় কি-না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে'।
দুই বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন দুই বাংলাদেশি তরুণী