অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জমজমাট আসর বিগ ব্যাশ লিগে বড় ধরনের দলবদলের হাওয়া বইছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল দল হোবার্ট হ্যারিকেন্সে দুই বছরের চুক্তিতে যোগ দিয়েছেন অজি লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা, যেখানে আগের আসরে বাংলাদেশের তারকা লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন মাতিয়েছিলেন অজিদের মাঠ।
২০২৫-২৬ মৌসুমে হোবার্টের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হওয়ার পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ‘বর্ষসেরা খেলোয়াড়’ নির্বাচিত হয়েছিলেন রিশাদ। যদিও গত আসরে সাফল্যের পর নতুন এই চুক্তিতে হোবার্ট এখনো বাংলাদেশি এই স্পিনারকে দলে ভেড়ায়নি।
এদিকে বিবিএল ১৬ ও বিবিএল ১৭ মৌসুমের জন্য করা এই চুক্তির ফলে হোবার্ট হতে চলেছে জাম্পার ক্যারিয়ারের পঞ্চম ভিন্ন কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। নতুন এই ঠিকানায় থিতু হওয়ার আনন্দ প্রকাশ করলেও, ঘরোয়া লিগের নতুন চুক্তি পদ্ধতি নিয়ে কোনো রাখঢাক না রেখে সরাসরি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই অজি স্পিনার।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের এই বোলার মনে করেন, বিগ ব্যাশের সাম্প্রতিক নিয়মনীতি ও নতুন কন্ট্রাক্টিং সিস্টেমের সুফল স্থানীয় খেলোয়াড়দের চেয়ে বিদেশি তারকারাই বেশি ভোগ করছেন। সম্প্রতি বিগব্যাশ থেকে ওভারসিজ ড্রাফট পদ্ধতি তুলে দিয়ে ক্লাবগুলোকে স্যালারি ক্যাপ বা বেতনের সীমারেখায় বাড়তি স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় শীর্ষ সারির অজি ক্রিকেটারদের পকেটে আরও বেশি অর্থ পৌঁছানো। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখছেন জাম্পা।
ক্রিকইনফো সূত্রে উদ্ধৃত, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাম্পা বলেন, ‘বিষয়টি সম্ভবত সেভাবে এগোয়নি যেভাবে আমরা ভেবেছিলাম। আমার মনে হয়, বিদেশি খেলোয়াড়রাই এখনও সেরা সুবিধাগুলো লুফে নিচ্ছে। তবে আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি খুশি। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই হোবার্টের সঙ্গে চুক্তি করার বিষয়ে আমার তীব্র আগ্রহ ছিল।’
ড্রাফট পদ্ধতি বাতিলের ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এখন নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরিতে কম সংখ্যক বিদেশি খেলোয়াড়দের পেছনে পানির মতো অর্থ খরচ করছে, যা আদতে স্থানীয় ক্রিকেটারদের প্রাপ্য অধিকার ও চাহিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন জাম্পা। চুক্তি নিয়ে নিজেদের আক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ড্রাফট উঠে গেছে, আর সেই টাকা দিয়ে প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য নির্দিষ্ট স্লট রাখার বদলে ক্লাবগুলো এখন ভালো মানের বিদেশি খেলোয়াড়ের পেছনে বেশি খরচ করতে পারছে এবং বিদেশি সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে আনছে। বিষয়টি স্থানীয় খেলোয়াড়দের ধারণার সম্পূর্ণ উল্টো, যেখানে আমরা মনে করি আমাদের কী পাওয়া উচিত ছিল।’
এদিকে বেন স্টোকসের মতো তারকাদের বড় অঙ্কের চুক্তিতে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সে নাম লেখানো কিংবা ফিন অ্যালেনের মতো মারকুটে ব্যাটারদের আকাশছোঁয়া চাহিদা প্রমাণ করে যে নতুন সিস্টেমেও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নজর বিদেশি মারকি খেলোয়াড়দের দিকেই বেশি। অন্যদিকে, বর্তমান চুক্তি চক্রে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনিই একমাত্র ফ্রি এজেন্ট থাকায় তার সামনে একাধিক বিকল্প খোলা ছিল। তবে হোবার্টের টিম ম্যানেজমেন্ট ও সতীর্থদের আন্তরিকতাই তাকে এই দল নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।
হোবার্টে টিম ডেভিড, রাইলি মেরেডিথ এবং বেন ম্যাকডারমটদের মতো তারকাদের সঙ্গে জুটি বাঁধতে চলা জাম্পা দলবদল ও নতুন এই পরিবেশ নিয়ে বলতে গিয়ে জানান, হোবার্ট অধিনায়ক নাথান এলিসসহ সেখানকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলেই তিনি নিজের ক্যারিয়ারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এনজোর ‘প্রথম’ অ্যাসিস্ট আর হালান্ডের জোড়ায় সিটির দাপট