ফিনল্যান্ডে ১৫০ কোটি ডলারের এআই ডাটা সেন্টার বানাবে গুগল

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫০ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো গড়ে তুলতে ফিনল্যান্ডে আগামী দুই বছরে অন্তত ১৫০ কোটি বা প্রায় ১৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে গুগল। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট। গুগলের দাবি, ইউরোপে এটাই তাদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় একক বিনিয়োগ। খবর রয়টার্সের। 

ডেটা সেন্টারের জন্য ফিনল্যান্ড ক্রমেই বড় আকর্ষণ হয়ে উঠছে। মাইক্রোসফট ও টিকটকের মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি জ্বালানি খরচ কমানো এবং জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য দেশটিতে ডেটা সেন্টার স্থাপনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

ফিনল্যান্ডের ঠান্ডা আবহাওয়া ডেটা সেন্টার থেকে উৎপন্ন অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণের খরচ কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি দেশটিতে বিপুল পরিমাণ কম-কার্বন বিদ্যুৎও পাওয়া যায়, যা বড় আকারের ডেটা সেন্টার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করেছে।

এআই ব্যবহারের কারণে বিশ্বজুড়ে কম্পিউটিং সক্ষমতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণে চলতি বছর অ্যালফাবেট তাদের বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাড়িয়ে ১৯৫ বিলিয়ন থেকে ২০৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে করার পরিকল্পনা করেছে।

গুগল জানিয়েছে, ফিনল্যান্ডে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের আওতায় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রিডের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং ব্যাটারি প্রকল্পও থাকবে। এসব অবকাঠামো গুগলের জেমিনি, সার্চ, ম্যাপস ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সেবা পরিচালনায় সহায়তা করবে।

এক বিবৃতিতে গুগল বলেছে, নতুন ডিজিটাল অবকাঠামো ফিনল্যান্ডের পাশাপাশি পুরো ইউরোপের ডিজিটাল সক্ষমতা, উদ্ভাবন এবং এআই উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

গুগলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিনিয়োগের মূল কাজ হবে ২০২৭ ও ২০২৮ সালে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, নির্মাণপর্বে এই বিনিয়োগ ফিনল্যান্ডের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখবে।

ডেটা সেন্টারগুলো চালু হওয়ার পর প্রতি বছর প্রায় ৭ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলেও জানিয়েছে গুগল।

ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেত্তেরি অরপো গুগলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ফিনল্যান্ডের সক্ষমতা ও শক্তির প্রতি গুগলের আস্থার “স্পষ্ট প্রমাণ”।

তিনি আরও বলেন, ডেটা অর্থনীতির গুরুত্ব শুধু সরাসরি বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি উদ্ভাবন, গবেষণা ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত