মাদারীপুরে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

মাদারীপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আইভী আক্তর (১৮)। তিনি একই এলাকার আসলাম শরীফ মেয়ে ও শরীয়তপুর শহরে কাতারপ্রবাসী মো. ফেরদৌসের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে আইভী ছোটবেলা থেকে তার চাচা কালাম শরীফের বাড়িতে থাকতেন। প্রায় এক বছর আগে শরীয়তপুর শহরের বাসিন্দা কাতার প্রবাসী মো. ফেরদৌস নামের এক যুবকের সাথে পরিবারের অসম্মতিতে আইভির বিয়ে হয়। সম্প্রতি ফেরদৌস কাতারে পাড়ি জমায়। এ কারণে আইভী তার স্বামীর ঘর ছেড়ে তার চাচা কালাম শরীফের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইভির চাচা কামাল শরীফ নামাজ আদায়ের জন্য বাহিরে যান ও তার স্ত্রী চিকিৎসক দেখানোর জন্য মাদারীপুর শহরে যান। বাড়িতে আইভিকে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ সময় আইভির ঘরে থাকা একটি আইফোন নিয়ে যায় হামলাকারীরা। 

রাত ৮টার দিকে আইভির চাচা কালাম শরীফ বাড়িতে আসার পরে তিনি আইভির নিথর দেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করেন। 

নিহতের চাচা কালাম শরীফ বলেন, আমার স্ত্রী ডাক্তার দেখাতে বাহিরে ছিল। আমি নামাজ আদায়ের জন্য বাহিরে যাওয়ার আগে ঘরের মেইন গেট বাইরের দিক থেকে তালাবদ্ধ করে মসজিদে যাই। বাড়িতে ফিরে ঘরের গেট ভেতরের দিক থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই। পরে কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে মেঝেতে গিয়ে দেখি ভাতিজির রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে আছে। কারা আমার ভাতিজিকে হত্যা করেছে তা জানিনা। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। পুলিশের কাছে সুষ্টু তদন্তের দাবি জানান তিনি। 

এদিকে পুলিশ বলছে, দুষ্কৃতকারীরা সুযোগ বুঝে ঘরে ঢুকে আইভির মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুটি কারণে আইভিকে হত্যা করা হতে পারে। প্রথমত ঘাতকরা চুরির উদ্দেশ্যে আগে থেকে ঘরে ঢুকে ছিল। দ্বিতীয়ত পরকীয়ার জেরেও ঘাতক প্রেমিক ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যা করতে পারেন।

এ সম্পর্কে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'নিহত আইভির মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। তাকে হত্যার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত করছে পুলিশ। চুরি বা পরকীয়া ছাড়াও অন্য কোন বিষয় রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন আসামি আটক করা হয়নি। তবে খুব শিগগিরি দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।'

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত