পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ৪ কোটি মানুষ, অর্ধেকই গণপরিবহনে

বিআরটিএর আওতাধীন পাবলিক পরিবহন শতভাগ ধূমপানমুক্ত করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে তামাক ব্যবহার ও ধূমপানের জন্য যে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যাতে যাত্রী, চালক বা হেলপার—কেউই পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে না পারেন।

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় দেশের সব গণপরিবহন শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে গণপরিবহনে যথাযথ ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন ও আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর সভাকক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর যৌথ আয়োজনে ‘তামাকমুক্ত গণপরিবহন নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘টেকসই তামাক ও ধূমপানমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহায়তায় ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম চালু থাকবে।’

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম। তিনি গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (GATS) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। পাশাপাশি প্রায় ৪ কোটি অধূমপায়ী মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সভায় গণপরিবহন ও বিআরটিএর সব কার্যালয়কে তামাকমুক্ত রাখতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বিআরটিএর বিভাগীয় ও সার্কেল অফিসসহ সব কার্যালয় এবং গণপরিবহনে আইন অনুযায়ী ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন নিশ্চিত করা; পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের নিয়ে নিয়মিত তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং বিআরটিএর ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো।

চালক ও চালকের সহকারীদের ধূমপানের ফলে পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন যাত্রীরা, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। ফলে ধূমপান না করেও একই ধরনের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। বক্তারা বলেন, বিআরটিএর আওতাধীন পাবলিক পরিবহন শতভাগ ধূমপানমুক্ত করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে তামাক ব্যবহার ও ধূমপানের জন্য যে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যাতে যাত্রী, চালক বা হেলপার—কেউই পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে না পারেন।

পাশাপাশি, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত-২০১৩) যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীদের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে বাসের টিকিটে ধূমপানবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা লেখার সুপারিশ করা হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া ও জর্ডানের আঞ্চলিক পরিচালক (প্রোগ্রামস) ড. মাহিন মালিক। সভাপতিত্ব করেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহসভাপতি ড. এসএম খলিলুর রহমান।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমানসহ বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত