দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর উপশাখার সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকগুলোর মোট উপশাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩টিতে। তিন মাসে নতুন করে ৪৯টি উপশাখা চালু হয়েছে। একই সময়ে ৮টি উপশাখা বন্ধ বা অন্য শাখা-উপশাখার সঙ্গে একীভূত হয়েছে। ফলে মার্চের তুলনায় জুন শেষে উপশাখার সংখ্যা বেড়েছে ৪১টি।
ব্যাংকিং সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এসব উপশাখা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এপ্রিল-জুন ২০২৬ প্রান্তিকের উপশাখা-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ শেষে দেশে উপশাখার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৯৯২টি। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩টিতে। এ সময়ে গ্রামে ৩০টি এবং শহরে ১৯টি নতুন উপশাখা চালু হয়েছে। ফলে মোট উপশাখার মধ্যে গ্রামীণ এলাকার অংশ মার্চের ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে জুনে দাঁড়িয়েছে ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশে।
উপশাখাগুলোতে আমানতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মার্চ শেষে এসব উপশাখায় মোট আমানতের স্থিতি ছিল ৭৯ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে উপশাখার আমানত বেড়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে পুরো ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ।
ফলে ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের মধ্যে উপশাখার অংশও কিছুটা বেড়েছে। মার্চে মোট ব্যাংক আমানতের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল উপশাখাগুলোতে, জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। উপশাখার মোট আমানতের মধ্যে গ্রামীণ এলাকার অংশও বেড়েছে। মার্চে এ হার ছিল ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ, যা জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশে।
উপশাখার মাধ্যমে নারীদের ব্যাংকিং অংশগ্রহণও অব্যাহত রয়েছে। মার্চে উপশাখার মোট আমানতের ২৬ দশমিক ২ শতাংশ ছিল নারীদের হিসাবের। জুনে সামান্য কমে এ হার দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশে। তবে নারীদেরসহ মোট আমানত হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে। মার্চে উপশাখায় আমানত হিসাব ছিল ৮৪ দশমিক ৭ লাখ, জুন শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৮৯ দশমিক ৭ লাখ। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত হিসাব বেড়েছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে নারীদের হিসাবের অংশ ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।
ঋণ বিতরণেও উপশাখাগুলোর কার্যক্রম বেড়েছে। মার্চ থেকে জুন—তিন মাসে উপশাখার মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ও অগ্রিমের মধ্যে উপশাখার মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের অংশ ১ দশমিক ১ শতাংশ।
উপশাখার ঋণ বিতরণে গ্রামীণ এলাকার অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্চে উপশাখার মোট ঋণের ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল গ্রামীণ এলাকার। জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় উপশাখার মাধ্যমে ঋণ বিতরণের প্রবণতা বেড়েছে। একই সময়ে নারীদের ঋণের অংশও ১৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।
তবে ঋণ হিসাবের সংখ্যা কমেছে। মার্চ শেষে উপশাখায় ঋণ হিসাব ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার ৫১২টি। জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ১০টিতে। অর্থাৎ তিন মাসে ঋণ হিসাব কমেছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। অবশ্য মোট ঋণ হিসাবের মধ্যে নারীদের হিসাবের অংশ ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি উপশাখা রয়েছে ঢাকায়। জুন শেষে ঢাকা জেলায় ১ হাজার ৭টি উপশাখা পরিচালিত হচ্ছিল। এরপর চট্টগ্রামে ৪৭০টি, কুমিল্লায় ২১৮টি, নারায়ণগঞ্জে ১৭০টি এবং গাজীপুরে ১৬৮টি উপশাখা রয়েছে।
ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি উপশাখা পরিচালনা করছে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। জুন শেষে ব্যাংকটির উপশাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২৪টি। এরপর এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির ৬৮৮টি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির ৩৫০টি, পূবালী ব্যাংক পিএলসির ২৮১টি এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ২৭১টি উপশাখা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর