সংসদে জানালেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

পাঁচ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২২ এএম

দেশের আট বিভাগের পাঁচটিতেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে আক্রান্ত রোগী এবং এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সংসদ সদস্যদের প্রতি নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন অভিযান-২০২৬’ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর প্রতি শনিবার সারা দেশে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশে পানি জমতে পারে এমন জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সবাইকে যুক্ত হতে হবে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন এলাকার উপজেলা হাসপাতালগুলোয়ও বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোয় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অন্তত পাঁচটি শয্যা আলাদা করে প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন সরকারের কাছে পর্যাপ্ত রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের মশারির মধ্যে রাখার ব্যবস্থাও করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে আগামী তিন মাসে রোগীর সংখ্যা এখনকার তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সময় সারা দেশে একই সঙ্গে কর্মসূচি শুরু হবে। রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউট, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, গার্ল গাইডস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের স্বেচ্ছাসেবক ও বিডি ক্লিনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এতে অংশ নেবে। সিটি করপোরেশনগুলো প্রতিদিন তাদের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাবে। এর পাশাপাশি প্রতি শনিবার দেশব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি চলবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ১২ সেপ্টেম্বর একই সময়ে ১১টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা প্রশাসন এবং ৫০৩টি উপজেলা প্রশাসন এই অভিযানে অংশ নেবে।

মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগে তেজগাঁওয়ে যানবাহনের চাপ কমবে : ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ হলে তেজগাঁও টোল প্লাজাসহ পুরো এক্সপ্রেসওয়ের যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এ জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সোনারগাঁও গোল চত্বর থেকে উত্তরমুখী আরেকটি র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছে। এই র‌্যাম্প চালু হলে তেজগাঁও টোল প্লাজার ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমবে।

মেট্রোরেলে ২৭টি বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল : কুমিল্লা-৯ আসনের আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেট্রোরেল রুটের ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাডের সবগুলোই ক্রিটিক্যাল নয়। বিয়ারিং প্যাডের ১৪৭টির ত্রুটি মাইনর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৯৭টি প্যাডের ক্ষেত্রে ত্রুটি মূলত স্থাপন ওয়ার্কম্যানশিপ সংক্রান্ত। ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অডিট কমিটির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায়

ক্র্যাক বা ফাটল চিহ্নিত হয়েছে। মন্ত্রী জানান, সেফটি অডিট কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল বলেন, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ হাজার ২৫৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পটি নির্মাণ ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন ফের চালুর উদ্যোগ : কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে না। তবে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। রাজশাহী-কলকাতা-রাজশাহী রুটে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।

গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগ : কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা কমানো ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গাড়ির অবস্থান ও গতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করা হলে চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে যত্রতত্র গাড়ি থামানো, যাত্রী ওঠানামা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো অনিয়মও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

৫৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত : নরসিংদী-৫ আসনের মো. আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। একই সময়ে ৮১ কিলোমিটার নতুন ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট ও ৫৯ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৫৯ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত, ১৫৮ কিলোমিটার সড়ক শক্তিশালী এবং ২৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক পুনঃপৃষ্ঠায়ন করা হয়েছে। ওই অর্থবছরে ৫৮টি সেতু, ২১৪টি কালভার্ট, একটি ফ্লাইওভার, একটি ওভারপাস ও দুটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে ১৫ হাজার ৮৫১ কোটি ৮ লাখ টাকা এডিপি বরাদ্দে ৯৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

পাট রপ্তানিতে আয় ৮৪ হাজার কোটি টাকা : সরকারি দলের সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, গত ১০ বছরে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ মোট ৮৪ হাজার ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আয় করেছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করছে। এর মধ্যে কাঁচা পাট ৩০টি দেশে এবং পাটজাত পণ্য ১৩৮টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

তবে বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত পাট বিদেশে রপ্তানি স্থগিত রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত