রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রাচীন মিসরের রহস্যময় মমি, রানী নেফারতিতির ঐতিহাসিক উপস্থিতি এবং বাংলার লোকজ সংস্কৃতির বর্ণিল উপস্থাপনায় শুরু হয়েছে ‘ঐতিহ্য উৎসব-২০২৬’। বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস ও বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্যকে একই মঞ্চে তুলে ধরে গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রতœতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় আয়োজিত উৎসবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ভুলে কোনো জাতি সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। আমাদের ইতিহাস ও প্রতœতত্ত্ব বিভাগ বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস এবং দেশীয় সংস্কৃতিকে একই মঞ্চে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছে। বৈশ্বিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের শিকড়কে চেনার এ প্রচেষ্টা শিক্ষার্থীদের আরও সমৃদ্ধ করবে।
এদিকে আয়োজকরা জানান, ‘অতীতকে দেখা, ইতিহাসকে যাপন করা এবং সংস্কৃতিকে আস্বাদন করা’Ñ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবে একদিকে প্রদর্শন করা হয় প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও রহস্যময় উপাদান। এর মধ্যে ছিল রানী নেফারতিতি ও তুতেনখামেনের মমিসহ মিসরীয় ইতিহাসের নানা নিদর্শন। অন্যদিকে বাংলার নিজস্ব লোকজ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও তুলে ধরা হয়। মধ্যযুগীয় মসজিদের প্রতিকৃতি, প্রতœতাত্ত্বিক খননকাজের বিভিন্ন উপকরণসহ নানা উপস্থাপনায় উৎসবস্থলটি পরিণত হয় ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রদর্শনীতে।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে উৎসবে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের বাহারি সাজসজ্জা ও প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
আয়োজক কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা ইতিহাস ও প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতœতত্ত্ব বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।