চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সোহরাওয়ার্দী হলের নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরী। তিনি আগামী এক বছরের জন্য এই দায়িত্ব পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে হল প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিতপ্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মোতাবেক প্রদেয় ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ আজ থেকে আগামী এক বছরের জন্য নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট নিয়োগ করা হলো।
নবনিযুক্ত প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরী ১৯৯৪ সালে চবির আরবি বিভাগ থেকে স্নাতক (অনার্স) এবং ১৯৯৫ সালে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পাশ করেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। এরপর ২০১০ সালে “জাহিলি কাব্যে মানবিকতাবোধ” শিরোনামে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
এরপর ২০০২ সালে একই বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। পরবর্তী ২০০৫ সালে সহকারী অধ্যাপক, ২০১০ সালে সহযোগী অধ্যাপক, ২০১৪ সালে অধ্যাপক এবং ২০২৬ সালে গ্রেড-১ অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। এর মধ্যে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি আরবি বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এছাড়াও বাংলা ভাষায় আরবি সাহিত্যের বহুল জনপ্রিয় ‘প্রাচীন আরবি কবিতা: ইতিহাস ও সংকলন’ বইটি তারই লেখা।
জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. ইসমাইল চৌধুরী বলেন, “আমাকে একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিষ্ঠার সাথে আমার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আমি আশা করি, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা পাবো।”
সদ্য সাবেক প্রভোস্ট, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নানকে তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব হতে গত ৩১ আগস্ট অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে, ছাত্রদল সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গে বাকবিতন্ডার জেরে পদত্যাগ করেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মান্নান। হল প্রভোস্ট ও ছাত্রদল নেতার বাকবিতন্ডার একটি অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে প্রভোস্টের সঙ্গে বেশ উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায় এই ছাত্রদল নেতাকে। এই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে তিনি উপাচার্য বরাবর এক সংক্ষিপ্ত চিঠিতে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।