রয়্যাল মরোক্কান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ফৌজি লেকজা। বে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এখনো ফাইনালের ভেন্যু আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।
মরক্কোর বোজনিকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফৌজি লেকজা বলেন, “বেনসলিমান প্রদেশ ২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের গৌরব অর্জন করবে।” বেনসলিমান হলো কাসাব্লাঙ্কা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি শহর। সেখানে ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে 'হাসান ২ স্টেডিয়াম'। ১,১৫,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এই ভেন্যুটি প্রস্তুত হলে তা হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল-নির্দিষ্ট স্টেডিয়াম।
অন্যদিকে ফাইনাল ম্যাচটি আয়োজনের লড়াইয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। স্পেনের প্রতিনিধিরা মনে করেন বিশ্বমঞ্চের সেরা এই ম্যাচটি স্পেনেই হওয়া উচিত। ফাইনালের দাবি নিয়ে দুই দেশের দরকষাকষির জবাবে ফিফা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সঠিক সময়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে। এর আগে গত আগস্টে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মরক্কোকে ফাইনাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা "ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর" বলে উড়িয়ে দিয়েছিল ফিফা।
ফাইনাল নিয়ে স্পেন-মরক্কো দ্বন্দ্বের নেপথ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা
ফুটবলের এই লড়াইয়ের নেপথ্যে যুক্ত হয়েছে দুই দেশের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন। গত জুলাইয়ের শেষে মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর অবৈধ প্রবেশের চেষ্টা ঘিরে কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়, যেখানে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর তথ্যমতে ১৪০ জনের মৃত্যু ঘটে। স্পেন সরকার দেশের ভেতর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে, যা ফুটবলের এই দ্বন্দ্বকেও প্রভাবিত করছে।
ইউরোপীয় ফুটবলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো বর্তমানে বেশ চাপে রয়েছেন। বিশ্বকাপের শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে উয়েফা তাঁর তীব্র বিরোধিতা করলেও, মরক্কোসহ ছয়টি আরব দেশের সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। ইনফান্তিনো সম্প্রতি দু'বার মরক্কো সফর করে মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেখানে ফিফার একটি জরুরি বৈঠকও পরিচালনা করেছেন। ফাইনাল ভেন্যু নিয়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রশ্নের জবাবে ফিফা জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়েই ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি মহাদেশের ছয়টি দেশ জুড়ে খেলা অনুষ্ঠিত হবে।টুর্নামেন্টের সিংহভাগ ম্যাচ যৌথভাবে আয়োজন করবে মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন। তবে বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনে প্রথম তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনার, প্যারাগুয়ে এবং উরুগুয়েতে।