অকার্যকর সরকারি প্রতিষ্ঠান সচল করতে নীতিমালা

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অকার্যকর সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর অধীনে প্রণীত এই নীতিমালায় অচল ও অব্যবহৃত সরকারি সম্পদ বেসরকারি খাতে ইজারা, কৌশলগত বিক্রয় বা অংশীদারত্বের মাধ্যমে পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

এতে বলা হয়, রুগ্ণ, অকার্যকর বা বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অব্যবহৃত জমি ও স্থাপনাকে নতুন বিনিয়োগের আওতায় এনে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কর্মকা- গতিশীল করাই এ নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা আনা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা ও পরিবেশগত নিরাপত্তার বিষয়েও বিধান রাখা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, সম্পদ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক রাখতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ‘বিনিয়োগ লেনদেন সমন্বয় ও তদারকি কমিটি’ গঠন করা হবে। কমিটি লেনদেনের সার্বিক তদারকি ও সমন্বয় করবে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে না কমিটির। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মূল্যায়িত সর্বোচ্চ যোগ্য প্রস্তাবদাতাকে সরকারি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করবে কমিটি।

বিনিয়োগকারী নির্বাচনে লেনদেনের ধরন অনুযায়ী এক ধাপ বা দুই ধাপের উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। যোগ্য বিনিয়োগকারী খুঁজতে জাতীয় দৈনিক, দাপ্তরিক ওয়েবসাইটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। কোনো বিনিয়োগকারী নিজ উদ্যোগে আগেই অনাহূত বিনিয়োগ প্রস্তাব দিলে মূল্যায়নে অতিরিক্ত ৭ শতাংশ নম্বর বা স্কোর সুবিধা পাবেন। তবে তাকেও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থ সুরক্ষায়ও নীতিমালায় কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। হস্তান্তরের আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন, পেনশন, আনুতোষিকসহ অন্যান্য আইনগত পাওনা পরিশোধে চূড়ান্ত দরপত্র আহ্বানের আগেই নিরীক্ষিত কর্মী-দায় বিবরণী প্রকাশ করতে হবে।

অন্যদিকে, এসব সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রয় থেকে পাওয়া অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আগে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বিশেষ ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। সেখান থেকে প্রথমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আগের যাবতীয় দায়-দেনা পরিশোধ করা হবে। অবশিষ্ট অর্থ সরকারের সংযুক্ত তহবিলে জমা দেওয়া হবে।

বিনিয়োগ বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চুক্তি সইয়ের পর প্রতি ছয় মাস অন্তর অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো বিনিয়োগকারী চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে বা নির্ধারিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সরকার বা কর্তৃপক্ষ নোটিস দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদের দখল পুনরায় নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত