দীর্ঘদিনের পর্যটক খরা কাটিয়ে আবারও মুখরিত হয়ে উঠেছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকলেও, সাপ্তাহিক ছুটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ছুটির দিনে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে নেমেছে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।
সকাল থেকেই সৈকতের জিরো পয়েন্ট, সৈকতসংলগ্ন এলাকা ও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে বাড়তে থাকে পর্যটকদের উপস্থিতি। পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে পুরো পর্যটন নগরীতে। দীর্ঘদিন পর হাসি ফুটেছে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্যুর গাইড, আলোকচিত্রী, ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ীসহ পর্যটননির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট, সৈকতসংলগ্ন এলাকা ও আশপাশের পর্যটন স্পটগুলোতে সকাল থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে। কেউ সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে গোসল করছেন, কেউ দল বেঁধে সাঁতার কাটছেন। আবার অনেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলে সময় কাটাচ্ছেন।
এদিন লেম্বুরবন, শুঁটকি মার্কেট, গঙ্গামতির সৈকত, ফাতরার বন, রাখাইন পল্লী, ইলিশ পার্ক, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধবিহার ও ঝাউবাগানসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটেও ছিল বাড়তি উপস্থিতি। পর্যটকদের আনাগোনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন স্থানীয় ট্যুর গাইড ও আলোকচিত্রীরা। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য পর্যটননির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও বেড়েছে বেচাকেনা।
তবে পর্যটকদের এই বাড়তি উপস্থিতির মধ্যেও সামনে এসেছে কুয়াকাটা সৈকতের ক্ষতবিক্ষত চিত্র। সমুদ্রের প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক গর্ত। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জিও ব্যাগ ও ক্ষতিগ্রস্ত সৈকতের কারণে অনেক পর্যটক গোসল করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
যশোর থেকে আসা পর্যটক সিয়াম বলেন, ‘সাগরের ঢেউ দেখে খুবই ভালো লাগছে। তবে সৈকতের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। জিও ব্যাগগুলো এমনভাবে পড়ে আছে যে গোসল করতে ভয় লাগছে। ঢেউয়ের তোড়ে অনেক জায়গায় গর্ত হয়েছে। সেখানে পড়ে অনেকে ব্যথাও পাচ্ছেন।’
ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ী জামাল ঘরামী বলেন, ‘অনেক দিন পর ভালো পর্যটক এসেছে। এতে আমাদের ব্যবসায় স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু সমুদ্রের ঢেউয়ের তাণ্ডবে সৈকত ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। এখন ছাতা ও বেঞ্চ বসাতেও অনেক সমস্যা হচ্ছে।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে কুয়াকাটা অনেকটা ফাঁকা ছিল। বিভিন্ন সরকারি ছুটি থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তেমন পর্যটক আসেননি। তবে বর্তমানে পর্যটকের আগমন বাড়ায় পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।’
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা বলেন, ‘আজ আশানুরূপ পর্যটকের আগমন ঘটেছে। আমাদের গাইড সদস্যরা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের সঙ্গে থেকে সেবা দিচ্ছেন। বর্তমানে কুয়াকাটার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ হোটেল কক্ষ বুকড রয়েছে। আশা করছি, সামনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।’
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, ‘অনেক দিন পর কুয়াকাটায় আশানুরূপ পর্যটকের আগমন ঘটেছে। পর্যটকদের আনাগোনায় সৈকত মুখরিত। কুয়াকাটার পর্যটনের ওপর প্রায় ১৬ পেশার মানুষ সরাসরি ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন পর পর্যটক আসায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।’
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক টিম নিয়োজিত করা হয়েছে। পর্যটকদের সেবা ও আইনি সহায়তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে।’
বিপর্যস্ত কুয়াকাটা, লোডশেডিংয়ে মুখ থুবড়ে পড়ছে পর্যটন ব্যবসা
ভয়াবহ ভাঙনের কবলে কুয়াকাটা সৈকত
কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো মৃত বটলনোজ ডলফিন