ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের চলতি মৌসুমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যে নামটি বার বার আসছে, সেটি রাফিনহার। বার্সেলোনার জার্সিতে মৌসুমের শুরু থেকেই অবিশ্বাস্য গোলবন্যা বইয়ে দিচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা আর্লিং হালান্ডদের মতো বিশ্বসেরা গোল মেশিনদের পেছনে ফেলে রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম নতুন করে লিখছেন তিনি।
রেকর্ড গড়া সূচনা
মৌসুমের শুরুতেই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে বার্সেলোনার ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন রাফিনহা। এর আগে কাতালান ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথম পাঁচ অফিসিয়াল ম্যাচে টানা গোল করার এমন রেকর্ড আর কারও ছিল না। স্প্যানিশ লা লিগার প্রথম চার রাউন্ড এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে গোল করে তিনি ভেঙে দিয়েছেন সব পুরোনো পরিসংখ্যান।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্ট-এর এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে যে, রাফিনহা ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে থেকে মৌসুম শুরু করেছেন, যা তার আগের কোনো মৌসুমের সঙ্গেই তুলনার যোগ্য নয়। লা লিগায় চার ম্যাচে ৬ গোল এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই গোলসহ মাত্র ৩৯০ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে ৮টি গোল করে ফেলেছেন তিনি। এর মাধ্যমে তার গোল করার অবিশ্বাস্য হার দাঁড়িয়েছে প্রতি ৪৯ মিনিটে একটি করে।
এমবাপ্পে ও হালান্ডদের ছাড়িয়ে যাওয়ার গল্প
পরিসংখ্যানের বিচারে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের অন্য সব ফরোয়ার্ডদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন রাফিনহা। লা লিগার গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে থাকা এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার লিগেই ৬ গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেছেন। বার্সেলোনার করা মোট ১৭ গোলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এসেছে তার একার পা থেকে।
শুধু লা লিগাই নয়, ইউরোপের বাকি লিগগুলোর তারকারাও এখন তার ছায়ার নিচে। রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপ্পে এবং ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন হালান্ড দারুণ ফর্মে থেকেও গোলসংখ্যায় রাফিনহার পেছনে পড়ে গেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লিগ মিলিয়ে হালান্ড ও এমবাপ্পে করেছেন পাঁচটি করে গোল, যা রাফিনহার ৮ গোলের গতির তুলনায় কিছুটা কমই। এমনকি সৌদি প্রো লিগে আল-আহলির হয়ে ইভান টোনে ৮ গোল করলেও রাফিনহার চেয়ে বেশি ম্যাচ ও বেশি সময় মাঠে কাটিয়েছেন।
পেনাল্টি ছাড়া রাজত্ব
রাফিনহার এই গোল উৎসবের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, তার করা ৮টি গোলের মধ্যে মাত্র একটি এসেছে পেনাল্টি থেকে। অর্থাৎ ওপেন প্লে থেকে নিজের গোল করার সহজাত ক্ষমতা দিয়ে তিনি গোলরক্ষকদের ত্রাসে পরিণত হয়েছেন। বার্সেলোনার আক্রমণভাগকে একা হাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এই তারকা এখন ইউরোপের সবচেয়ে ভীতিজাগানিয়া নাম।
এবার জাপানের কাছে হেরে বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ যুবাদেরও