স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বাজেট ৬ হাজার কোটি টাকা বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি আরও জানান, এ নির্বাচন হবে সাধারণ প্রতীকে, দলীয় প্রতীকে নয়।
তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের প্রধান ম্যান্ডেট হলো পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যেকোনো মূল্যে এসব নির্বাচন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। এ বাবদ বাজেটে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তক করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই জানিয়েছেন তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার নেই।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন। তাদের দলীয় কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আমরা বিব্রতবোধ করি। আইন অনুযায়ী তাদের কোনো সভা-সমাবেশ করা বা দলীয় কার্যালয় খোলার সুযোগ নেই। যদি তারা আইন অমান্য করে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশোধিত আইন অনুযায়ী এবার দলীয় মনোনয়ন বা জাতীয় প্রতীক (যেমন ধানের শীষ) ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং সাধারণ প্রতীকে। তবে মাঠপর্যায়ে দলের চেইন অব কমান্ড ঠিক রাখতে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে, অন্যথায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বগুড়ার ইপিজেড, বিমানবন্দর ও বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথসহ প্রধান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের মেয়াদ মাত্র ছয় মাস পার হয়েছে। বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মমাফিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জন্য কিছুটা সময় লাগে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই বগুড়াবাসী এসব প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন।
এসময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতারা।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ: এলজিআরডি মন্ত্রী
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী