পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নে ও কক্সবাজারের টেকনাফে আলাদা ঘটনায় শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে পাঁচ শিশু-কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, পাবনায় মাঠে জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নেমে একসঙ্গে তিনজন শিশু ডুবে মারা গেছে। অন্যদিকে, টেকনাফের নাফ নদীতেও আরও দুই কিশোরের মৃত্যু হয়।
পাবনা প্রতিনিধি জানান, উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে শুক্রবার দুপুর ২টায় মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে নামে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত তিন শিশু হলো- দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলামের (আশরাফ) ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে নামে শিশুরা। এ সময় প্রথমে একজন পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পরপর আরও দুজন পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, টেকনাফ প্রতিনিধি জানান, নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কিশোর বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো- সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ উত্তর-পূর্ব পাড়ার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছোট ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১৩) এবং একই এলাকার কেফায়েত উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ আরজিন (১৫)। তারা দুজন একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে নাফ নদীতে আনন্দ করে গোসল করতে নামে দুই বন্ধু। একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোতের টানে তারা পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও স্বজনরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
জুমার নামাজের পর স্থানীয়দের সহায়তায় নাফ নদীতে তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজ দুই কিশোরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সনজীব জানান, আমরা স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাই যে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
স্থানীয় জেলে ও কোস্টগার্ডের যৌথ প্রচেষ্টায় নিখোঁজদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল করিম রেজু বলেন, গোসল করতে নেমে আমাদের এলাকার দুটি তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যাবে তা ভাবতেই পারছি না।
পুরো উত্তর-পূর্ব পাড়া গ্রামে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিশান ও আরজিন খুব ভালো ছেলে ছিল। জোয়ার-ভাটার সময়ে নদীতে নামার ক্ষেত্রে সবাইকে আরও সচেতন হওয়া দরকার।
নিহত নিশানের বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, সকালে বন্ধুদের সাথে গোসল করতে গিয়েছিল আমার ছেলেটা। কিন্তু নদী যে তাকে এভাবে কেড়ে নেবে তা কখনো কল্পনাও করিনি।
জুমার নামাজের পর গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় তাদের মরদেহ নদী থেকে তোলা হয়। আল্লাহ যেন আমার সন্তানকে জান্নাতবাসী করেন।