দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও রজতজয়ন্তী পালিত হয়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রূপে ২৫ বছর পূর্ণ করলেও কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণে উপমহাদেশের কৃষি বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ৮৮ বছরের পুরনো।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় একাডেমিক ভবনের সামনে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে দিনব্যাপী উদযাপনের সূচনার পর বের হয় একটি আনন্দ-র্যালি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব খামারে বৃক্ষরোপণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ ভাগ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ ও কেক কাটা হয়। পরে প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে প্রতিষ্ঠানের ২৫ বছরের পথচলা ও অর্জন নিয়ে এক আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় ৮৮ বছরের এক দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর। ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ‘বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’ নামে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেন, যার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল খাদ্যসংকট মোকাবিলা ও কৃষির আধুনিকায়ন। মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ‘ইস্ট পাকিস্তান এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’ এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট (বিএআই)’ নাম ধারণ করে। পরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ ‘শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইতিমধ্যে ২৫ বছর পূর্ণ করেছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত দেশের কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে শেকৃবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কাজী পেয়ারার জনক ড. কাজী এম বদরুদ্দোজার মতো বহু প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও কৃষিবিদ এই আঙিনা থেকেই উঠে এসেছেন।
কৃষিতে অসামান্য অবদানের জন্য এখানের গবেষকরা স্বাধীনতা পুরস্কার, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার, বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি স্বর্ণপদকসহ বহু জাতীয় সম্মাননা অর্জন করেছেন।
এখানের গবেষকদের উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের জাত, একই গাছে আলু ও টমেটো উৎপাদনের প্রযুক্তি ‘পমেটো’, স্মার্ট ড্রায়ার, স্মার্ট ফিডার ও স্মার্ট এরেটরের মতো আধুনিক প্রযুক্তি দেশের
কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সরাসরি অবদান রাখছে। বর্তমানে চারটি অনুষদের অধীনে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে ক্যাম্পাসটি মুখরিত, যেখানে স্নাতকোত্তর ও উন্নত গবেষণার পরিধি দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে।