হাদিস ও বিজ্ঞানে বদনজর

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

কারও নতুন চাকরি হয়েছে, নতুন গাড়ি কিনেছে, বিয়ে হয়েছে, সন্তান হয়েছে কিংবা জীবনে হঠাৎ ভালো কিছু ঘটেছে। এখন কেউ যদি বলে, ‘বদনজর থেকে সাবধান’, আমরা অনেক সময় কথাটাকে কুসংস্কার বলে এড়িয়ে যাই। কিন্তু ইসলাম কি সত্যিই সেটাকে সেভাবে দেখেছে?

প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বদনজর সত্য। (সহিহ মুসলিম) হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে, বদনজর সত্য। যদি কোনো কিছু তকদিরকে অতিক্রম করতে পারে, তবে তা হলো বদনজর। (সহিহ মুসলিম) আরও বর্ণিত হয়েছে, তোমরা বদনজরের ক্রিয়া (খারাপ প্রভাব) থেকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো। কেননা তা সত্য। (ইবনে মাজাহ) পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হিংসুক যখন হিংসা করে, তার অনিষ্ট থেকে আমি আশ্রয় চাই।’ (সুরা ফালাক ৫)

এবার দেখা যাক, দৃষ্টির পেছনে বিজ্ঞান কী যুক্তি দেয়। মানুষ যখন কারও দিকে তাকায়, তখন শুধু চোখই কাজ করে না। সেই দৃষ্টির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার অনুভূতি, মূল্যায়ন, আকর্ষণ, ঈর্ষা, ভয় কিংবা বিদ্বেষও। ভালোবাসার চোখে কাউকে দেখা আর হিংসার চোখে দেখা একই বিষয় নয়। আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের এই সামাজিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে। বিশেষ করে ‘সোশ্যাল-ইভ্যালুয়েটিভ থ্রেট’ বা অন্যের নেতিবাচক মূল্যায়নের আশঙ্কা মানুষের শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তা নিয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণা রয়েছে।

২০০৪ সালে মনোবিজ্ঞানী স্যালি এস. ডিকারসন ও মার্গারেট ই. কেমেনির গবেষণায় দেখা যায়, সামাজিকভাবে মূল্যায়িত বা বিচারিত হওয়ার আশঙ্কা মানুষের শরীরে কর্টিসল-নির্ভর স্ট্রেস রেসপন্স বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এই গবেষণাটি মানসিক চাপের শারীরিক প্রতিক্রিয়া এবং মানবদেহে এর প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ অন্যের দৃষ্টি বা মূল্যায়ন সবসময় আমাদের শরীরের কাছে অর্থহীন কোনো বিষয় নয়। কেউ আপনার দিকে এমনভাবে তাকালো যে আপনি বুঝতে পারলেন, আপনাকে বিচার করা হচ্ছে। হয়তো দেখা যাবে, কিছুক্ষণ পর বুক ধড়ফড় করছে, অস্বস্তি লাগছে, হাত ঘামছে, মাথা ভার লাগছে। আমাদের মস্তিষ্ক সামাজিক হুমকিকেও কখনো কখনো বাস্তব চাপ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। ফলে শরীরে স্ট্রেস রেসপন্স তৈরি হতে পারে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বদনজর থেকে বাঁচার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত