ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখার পর পুরো লোহিত সাগরেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলজুড়ে হুতিদের এই নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের ফলে বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান জলপথ ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালির ওপর তাদের কর্র্তৃত্ব আরও শক্তিশালী হলো। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি গতকাল শুক্রবার জানান, ৬টি জেলা থেকে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সেনাবাহিনীকে পিছু হটানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য যেকোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য লোহিত সাগরে চলাচল সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব এতদিন বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরের এই পথটি ব্যবহার করছিল। এখন সেই পথও বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
হুতিরা ইতিমধ্যে লোহিত সাগরের কৌশলগত ‘হানিশ’ দ্বীপপুঞ্জে অবস্থান নিয়েছে। এই জলপথের পুরো নিয়ন্ত্রণ গোষ্ঠীটির হাতে চলে গেলে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের মিত্র ইরানের হাত আরও শক্তিশালী হবেÑ যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় সংকট তৈরি করতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী পিছু হটার পর সশস্ত্র হুতি যোদ্ধাদের বহনকারী নৌযানগুলো মেয়ুন দ্বীপে পৌঁছায়। পেরিম নামেও পরিচিত এই দ্বীপটি প্রণালিটিকে দুটি নৌপথে বিভক্ত করেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বন্দুকধারীরা বাব আল-মান্দেব উপকূলজুড়ে অবস্থান নিয়েছে। তারা সেখানে সামরিক যানবাহনে টহল দিচ্ছে।
এদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করে লোহিত সাগরের উপকূল ধরে অগ্রসর হওয়ায় সৌদি আরবের উদ্বেগ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হুতিদের ওপর হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার এমবিএস ট্রাম্পকে দুবার ফোন করেন। প্রথমবার তিনি ইয়েমেনের পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে ট্রাম্পকে অবহিত করেন। কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয়বার ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে ট্রাম্প তাতে সম্মতি দেননি। ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যাওয়ার পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই। তবে সৌদি আরবকে হুতিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করা হবে। সৌদি আরবে ইতিমধ্যে প্রায় ২০০ সামরিক সদস্য গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিচ্ছেন।
ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্র, ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে হুতিদের উপকূলীয় অগ্রযাত্রায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশনা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আইআরজিসির কয়েকশ কর্মকর্তা বর্তমানে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে কাজ করছেন। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতি গত কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। তবে গত জুলাইয়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। হুতিদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেছেন, তাদের অভিযান আত্মরক্ষামূলক এবং ইয়েমেনে হামলা বন্ধ হলে তা থেমে যাবে।