ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসুকে আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা তরুণ এই রাজনীতিকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় শনিবার সকালে তাকে ওয়ার্ডে দেওয়া হয় বলে জানান এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য সচিব সজীব তানভীর।
তিনি বলেন, বর্তমানে মেঘমল্লার চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ আছেন। তাকে চাপমুক্ত রাখতে চিকিৎসকরা বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন।
ওয়ার্ড থেকে দ্রুত তাকে কেবিনে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তানভীর। মেঘমল্লারের চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।
সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা গেট এলাকা থেকে মেঘমল্লারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বন্ধুরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তার পাকস্থলী ‘ওয়াশ’ করেন।
তার চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিষক্রিয়ার সমস্যার কারণে পাকস্থলী ধৌত করা হয়েছিল।
প্রথমে তাকে হাসপাতালের ৬০২ নম্বর কক্ষের ৩ নম্বর বেডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার বিকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে একই ভবনের পঞ্চম তলার আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বুধবার তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ নেওয়া হয় বলে আইসিইউর মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান আল বান্না জানিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার তার শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল’ জানিয়ে কৃত্রিম অক্সিজেনের মাত্রা কমানোর তথ্য দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। একইসঙ্গে তার চিকিৎসার জন্য গঠন করা হয়েছিল সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড।
এর মধ্যে শুক্রবার দুপুর ১২টার পর মেঘমল্লারের জ্ঞান ফেরার তথ্য দিয়েছিলেন তানভীর। শুক্রবার রাতে তানভীর বলেছিলেন, জ্ঞান ফেরার পর থেকেই মেঘমল্লারের কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে, তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন।
এদিন সন্ধ্যায় মেঘমল্লার এনপিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমি, নাজিফা জান্নাত এবং কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য অনিক রায়, বাকী বিল্লাহ, শামীম আরা নীপা ও মনোয়ার নাঈম এবং সজীব তানভীরের সঙ্গে কথাও বলেন।
জ্ঞান ফিরেছে মেঘমল্লার বসুর