গুমের স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে শেখ হাসিনা অভিনয় করতেন: স্পিকার

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

‘শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে এনে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতেন। অথচ তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকত গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার হিংস্র মনোভাব।’ এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা নাগরিক সমাজ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল।

মেজর হাফিজ বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তির স্বজনদের শেখ হাসিনা তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। কিন্তু তার অভিযোগ, গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন, তা শেখ হাসিনা নিজেই জানতেন। জনগণ তখন এসব বিষয় বুঝতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে গুমের ঘটনাগুলো নিয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক কার্যক্রমে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসায় বিষয়গুলো মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘একজন ব্যারিস্টারকে আট বছর হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আয়নাঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। কতটা নির্মম ও জঘন্য আচরণ করা হয়েছে তার সঙ্গে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি মুক্ত হয়ে এখন সংসদ সদস্য হয়েছেন।’

বিগত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মেজর হাফিজ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ৬০ হাজার টাকা এবং একটি পর্দার দাম ৪২ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল। তার অভিযোগ, সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই কাজের চেয়ে অর্থ আত্মসাতের প্রবণতা বেশি ছিল।

লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে মেজর হাফিজ বলেন, ‘বিগত সরকারের এখানকার স্থানীয় এমপি ছিলেন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি। ২০১০ সালের উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে দিনের বেলায় আমার নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ওই নির্বাচনে তার প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম। তাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছিল। পরে হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়ে মেজর হাফিজ নিজেও হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারেননি বলে দাবি করেন।

সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতা, গুম-নির্যাতনের অভিযোগ এবং বিগত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন মেজর হাফিজ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত