‘গিলোটিন’ হলো অষ্টাদশ শতাব্দীতে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের যন্ত্র। অপরাধীর মৃত্যুদন্ডকে অপেক্ষাকৃত কম বেদনাদায়ক ও দ্রুত করতে গিলোটিনের ব্যবহার হয়। এর আগে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পদ্ধতি ছিল আরও নির্মম ও অমানবিক। অষ্টাদশ শতাব্দীর আগে, ইউরোপে বহুল প্রচলিত মৃতুদন্ডের মাধ্যম ছিল আসামির হাড় ‘ভেঙে ভেঙে’ হত্যা করা। এ পদ্ধতিতে অপরাধীকে একটি চাকায় হাতন্ডপা টানটান করে বাঁধা হতো। এরপর মৃত্যুদন্ড কার্যকরকারী জল্লাদ মুগুর দিয়ে পিটিয়ে শরীরের প্রত্যেকটি হাড় ভাঙত। ১৭৯২ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমবার গিলোটিনের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। ফরাসি বিপ্লবের সময় এর ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে। ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুই এবং রানী মারি আতোয়ানেতকে গিলোটিনেই মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছিল। জনসম্মুখে গিলোটিনে শেষ মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়, ১৯৩৯ সালের ১৭ জুন ভার্সাইল্লেসে। সে সময় উপস্থিত জনতা এই দৃশ্যে এতটাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন, এরপর থেকে জনসম্মুখে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে গোপনীয়ভাবে ১৯৭৭ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত গিলোটিনের ব্যবহার হয়। এক বছরের মধ্যে গিলোটিনের মাধ্যমে প্রায় ৪০,০০০ মানুষের শিরেদ করা হয়েছিল। বহু বিখ্যাত ব্যক্তিকে এই গিলোটিনের মাধ্যমেই মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। যদিও গিলোটিনকে ‘মানবিক ও কম বেদনাদায়ক’ পদ্ধতি হিসেবে চালু করা হয়েছিল, কিন্তু মাথা কাটার পর রক্তবন্যা এবং জল্লাদের ঝুড়িতে কাটা মাথা ছিটকে পড়ার মতো দৃশ্য আধুনিক সমাজে অত্যন্ত নৃশংস ও বর্বরতা হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে। ১৯৮১ সালের সেপ্টেম্বরে সম্পূর্ণভাবে মৃত্যুদন্ড নিষিদ্ধ করে, গিলোটিনের ব্যবহার বন্ধ করা হয়।
গিলোটিনের বর্বরতা
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
গিলোটিনের বর্বরতা
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০