২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে হামলার পর বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের হাত ধরে শুরু হওয়া তথাকথিত এই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রাণ গেছে আনুমানিক ৪৫-৪৭ লাখ মানুষের। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ। নিউ ইয়র্কে হামলার এর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আফগানিস্তানে হামলার মধ্য দিয়ে এর শুরু। এরপর ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তানসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে একের পর এক সামরিক অভিযান চালায় ওয়াশিংটন। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাবে, সরাসরি যুদ্ধের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। আর রোগ, অপুষ্টি ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতায় পরোক্ষভাবে মারা গেছেন ৩৬ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ।
আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তালেবান সরকারের পতন ঘটলেও যুদ্ধ থামেনি। কস্ট অব ওয়ার প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, আফগানিস্তানে সরাসরি যুদ্ধের কারণে প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি ক্ষুধা, রোগ ও চিকিৎসার অভাবে আরও কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধের আগে দেশটির ৬২ শতাংশ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলেও, যুদ্ধের পর এ হার বেড়ে ৯২ শতাংশে পৌঁছায়। ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে এমন অভিযোগ সামনে রেখে শুরু হওয়া ওই যুদ্ধের পর দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতায় পড়ে ইরাক। কস্ট অব ওয়ার প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, ইরাক যুদ্ধে সরাসরি প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, আফগানিস্তান এবং ইরাক-সিরিয়ায় ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের পর পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৪২৩টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ২ হাজার ৪৯৯ থেকে ৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেসামরিক মানুষের সংখ্যা ৪২৪ থেকে ৯৬৬ জন। ইয়েমেনে অন্তত ১৮৬টি হামলা ও অভিযানে কমপক্ষে ৮৫৩ জন নিহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে অন্তত ১৫৮ জন বেসামরিক মানুষ। সোমালিয়ায় ২০০১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৯-২৩টি হামলায় ১৮৮ থেকে ২৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, সাত মাসে লিবিয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৭০০টি হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কস্ট অব ওয়ার প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, ৯/১১ পরবর্তী যুদ্ধের কারণে আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, ফিলিপাইন, লিবিয়া ও সিরিয়ায় তিন কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ নিজ দেশ বা দেশের বাইরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।