সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কৃষিপণ্য রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। গত কয়েক বছরে এ খাতের রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমেছে। পণ্য ও বাজারের বৈচিত্র্যহীনতা, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবের অভাব, বাণিজ্য চুক্তির ঘাটতি এবং চড়া উৎপাদন খরচের কারণে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর ১১তম আসরে ‘এক্সপোর্ট অব অ্যাগ্রো-প্রসেসিং : চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক টেকনিক্যাল সেশনে এসব বিষয় উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা ফেলো আবু সালেহ মো. শামীম আলম শিবলী। সেশনে উপস্থিত ছিলেন বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি উজমা চৌধুরীসহ অন্যরা।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বাজারের আকার প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৮ সালে ২৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার প্রক্রিয়াজাত কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৭০০টির মতো প্রতিষ্ঠান রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। তবে বিশাল এই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের বাজারের শেয়ার একেবারেই নগণ্য। বিশ্ব বাণিজ্য ১০০ টাকা ধরা হলে এতে ভিয়েতনামের শেয়ার যেখানে ৩ টাকা ৮৯ পয়সা, সেখানে বাংলাদেশের মাত্র ৫ পয়সা।
উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের এ খাতের রপ্তানি আয় তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং খাত থেকে ১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার আয় হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের রপ্তানি মূলত নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ও বাজারে সীমাবদ্ধ। মোট রপ্তানির প্রায় ৪৫ শতাংশই আসছে বিস্কুট ও স্ন্যাকস জাতীয় পণ্য থেকে। এক সময় চিংড়ি রপ্তানি অন্যতম শক্তি হলেও তা দিন দিন কমছে। অন্যদিকে, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো বৈচিত্র্যময় পণ্য নিয়ে বিশ্ববাজার দখল করছে। বাংলাদেশের রপ্তানি মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও গালফ অঞ্চলের দেশগুলোতে থমকে আছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় বাজারগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করছে প্রতিযোগী দেশগুলো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ২২ ধরনের ফসল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে। তবে অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং কার্যকর সংরক্ষণের অভাবে উচ্চ অপচয়ের কারণে কোনো নির্দিষ্ট কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্থায়ী ভিত্তি গড়ে তুলতে পারছে না। পাশাপাশি উৎপাদন পর্যায়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জমি, বন্দরকেন্দ্রিক জটিলতা, অতিরিক্ত সেচ খরচ এবং ঋণের উচ্চসুদের হার উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অর্থায়ন সংকটে ভুগছেন।