সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আস্থা ফেরাতে মরিয়া

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ এএম

আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। অর্থ ফেরতের আবেদনের বিপরীতে দ্রুত টাকা পরিশোধের পাশাপাশি ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন সচল রাখার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৯৭ জন গ্রাহককে ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে ব্যাংকটি। 

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান শিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গ্রাহককে টাকা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের অন্যান্য লেনদেনও স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি ব্যাংকের নিয়মিত কার্যক্রমও সচল রাখা হচ্ছে।’

রাজধানীর মতিঝিল, বাংলামোটর, গুলশান, বনানী এলাকার ব্যাংকটির একাধিক শাখা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গ্রাহকদের টাকা পরিশোধে প্রতিটি শাখায় পর্যাপ্ত অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল থেকেই টাকা তুলতে এসব শাখায় ভিড় করেন গ্রাহকরা। শাখার কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। যথাযথভাবে আবেদন করা গ্রাহকদের মধ্যে সবাইকেই আবেদন অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ শুরু হয়। প্রথম দিন ৮ হাজার ১২৫ জন গ্রাহককে ৩১৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়। ৮ সেপ্টেম্বর ৭ হাজার ২৩৪ জন গ্রাহককে ৩৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ১০ হাজার ৬৯৭ জন গ্রাহককে ৩৮১ কোটি টাকা দেওয়া হয়।

আর ১০ সেপ্টেম্বর ৯ হাজার ৪১ জন গ্রাহককে ৩৯১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে চার দিনে মোট ৩৫ হাজার ৯৭ জন গ্রাহকের কাছে ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে ব্যাংকটি। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানত ফেরতের জন্য আবেদন নেওয়া শুরু করে ব্যাংকটি। প্রথম দিন ১৮ হাজার ৪৬ জন গ্রাহক ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও গ্রাহক অর্থ ফেরতের আবেদন করেন।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন করে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা ও আমানতকারীদের আস্থা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার ওপরই নির্ভর করবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ।

চার দিনে ৩৫ হাজারের বেশি গ্রাহকের হাতে ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা পৌঁছে দেওয়া সেই প্রচেষ্টারই অংশ। এখন ব্যাংকটির সামনে বড় প্রশ্ন এই গতি ধরে রেখে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে স্থায়ীভাবে আমানতকারীদের আস্থা পুনর্গঠন করা যায়।

আবেদুর রহমান শিকদার বলেন, ‘আমরা ধারণা করেছিলাম আরও অনেক বেশি গ্রাহক অর্থ উত্তোলনের জন্য আবেদন করবেন। কিন্তু সে পরিমাণ গ্রাহক আবেদন করেননি। যারা করেছেন, তাদের বড় একটি অংশই আবার অর্থ উত্তোলন করছেন না। শাখা থেকে তাদের ফোন করার পর টাকা উত্তোলন না করার কথা জানাচ্ছেন।

এর অর্থ হলো ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকরা আস্থা ফিরে পাচ্ছেন। গ্রাহকদের প্রাথমিক দাবি ছিল হেয়ারকাট বাতিল করা। আমরা তাদের জন্য তার চেয়ে বেশি করছি। মাসিক স্কিমের টাকাও এখন দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকে অর্থের প্রবাহ এবং লেনদেনের কার্যক্রমও প্রায় পুরোটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

খেলাপি ঋণের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী একীভূত হতে যাওয়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক। পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি হওয়া ঋণের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি এ পাঁচ ব্যাংকের। জুনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত