ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত বাংলাদেশি নারী নির্মাতার ছবি

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫০ পিএম

বাংলাদেশি নির্মাতা রুবাইয়াত হোসাইনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে স্বাধীন চলচ্চিত্র সমালোচকদের পুরস্কার প্রিমিও বিসাতো দ’ওরো জিতেছে। উৎসবের আনুষ্ঠানিক পুরস্কার ঘোষণার আগেই এই স্বীকৃতি পেল ছবিটি। 

এ অর্জনের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল। এ বছর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ওরিজন্তি প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ইতিহাস গড়ে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’।

সমকালীন ঢাকাকে পটভূমি করে নির্মিত ছবিটির গল্প জাইনিনকে ঘিরে—এক তরুণী, যার বিয়ের প্রস্তুতি ও সৌন্দর্যচর্চার নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে তার শরীরে অদ্ভুত পরিবর্তন শুরু হয়। নারীবাদী রহস্যময় লোককথা, ভৌতিক ও অতিপ্রাকৃত উপাদানের মিশেলে নির্মিত ছবিটি দেখায়, কীভাবে নারীর শরীর পরিবার, সমাজের প্রত্যাশা, নিয়ন্ত্রণ ও আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হয়।

রুবাইয়াত হোসাইনের জন্য এই স্বীকৃতি এসেছে তার নিজের এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।  

এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, 'আমি দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড খুবই ব্যক্তিগত একটি জায়গা থেকে নির্মাণ করেছি—নারীরা কীভাবে নিজেদের শরীরকে ধারণ করতে শেখে, তাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং কখনো কখনো নিজেদের শরীরকেই ভয় করতে শেখে, সেই ভাবনা থেকেই। ভেনিসে স্বাধীন চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছ থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়া আমার জন্য গভীরভাবে অর্থবহ। আমি আশা করি, ছবিটি দর্শকদের বাংলাদেশের সঙ্গে শুধু এর সামাজিক বাস্তবতার মাধ্যমে নয়, বরং এর কল্পনা, লোককথা, অন্ধকার ও সৌন্দর্যের মধ্য দিয়েও পরিচিত হওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করবে।'  

বিসাতো দ’ওরো ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্বাধীন সমালোচক পুরস্কার। এটি উৎসবের মূল আয়োজক ভেনিস বিয়েনালের দেওয়া আনুষ্ঠানিক পুরস্কারগুলোর থেকে আলাদা। এবারের উৎসবে এই স্বীকৃতি 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'-কে আন্তর্জাতিক সমালোচকদের আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে এসেছে। 

ভেনিসে ছবিটির নির্বাচনের পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি বেশ সাড়া ফেলেছে। দক্ষিণ এশীয় বিয়ের নানা রীতি ও আচারকে নারীবাদী ফোক হররের ভাষায় রূপ দেওয়ার জন্য ছবিটির প্রশংসা করেছেন সমালোচকেরা। চলচ্চিত্রবিষয়ক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইন্ডিওয়্যার ছবিটিকে দক্ষিণ এশীয় বিয়ের প্রচলিত অনুষঙ্গকে 'নারীবাদী ফোক হররে' রূপান্তরের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ফ্রাঁসোয়া দ’আর্তেমারের প্রযোজনায় নির্মিত 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ও পর্তুগালের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র। ছবিটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনা ও বিক্রয়স্বত্বের দায়িত্বে রয়েছে ফিল্মস বুটিক। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত