সাগর-রুনি হত্যা

বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ পরিবারের

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৯ এএম

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে তাদের পরিবার। গতকাল রবিবার সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষে রুনির ভাই নওশের আলম রোমান চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এ আবেদন করেন। এতে বলা হয়, দীর্ঘ ১৪ বছরেও এই হত্যাকা-ের কোনো কিনারা করতে পারেনি সরকার ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো। থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স এই মামলার তদন্ত করছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই। কিন্তু টাস্কফোর্স গঠনের পর প্রায় ২ বছর হতে চললেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি হয়নি। এতে আরও বলা হয়, ‘পরিবারের সদস্যরা (সাগর-রুনির পরিবার) চান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনুক এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর নওশের আলম রোমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই সুষ্ঠু ও প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে যেন যারা জড়িত, তাদের নামটা আসে। আমরা চাই না যে কোনোভাবে তদন্ত বন্ধ হয়ে যাক।’ 

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবারই তো প্রত্যাশা যে অপরাধীর বিচার হোক। সঠিকভাবে তদন্ত হোক। অভিযোগ আমরা গ্রহণ করলাম। আমরা খতিয়ে দেখব যে, এটা নিয়ে আমাদের তদন্ত করার কোনো সুযোগ আছে কিনা।’ তিনি বলেন, ‘আনুষঙ্গিক তদন্তে যদি সাগর-রুনির কোনো বিষয়ে আমরা কোনো তথ্য-প্রমাণ, কোনো কানেকশন, কোনো কিছু যদি পাই, তাহলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাকে সেটা সরবরাহ করা হবে।’

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মেহেরুন রুনি। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হলে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্ত ভার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যাব) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সাগর-রুনি হত্যা মামলায় বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্তের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের আদেশ দেয় হাইকোর্ট। এরপর মামলাটিতে তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন  (পিবিআই)। হাইকোর্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত টাস্কফোর্সকে সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্ত শেষ করতে তৃতীয় দফায় ছয় মাস সময় দেয়। গত বৃহস্পতিবার ধার্য দিনে বিচারিক আদালতে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল না করায় ১২৯ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হয়। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য আছে।।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত