বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান তরুণীর

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে চার দিন ধরে অবস্থান করছেন আয়েশা সিদ্দিকা নামে এক তরুণী। বিয়ে না করা পর্যন্ত বাড়ি ফিরবেন না এবং আত্মহত্যা ছাড়া কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে প্রেমিকার আসার খবর শুনে বাড়ি থেকে পালিয়েছেন প্রেমিক নাজমুল সরকার ইমন।

জানা যায়, হাকিমপুর উপজেলার ঘাসুরিয়া গ্রামের ইসিম সরকারের ছেলে কলেজে অধ্যায়নরত নাজমুল সরকার ইমন ও নওদাপাড়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের সদ্য এসএসসি পাস করা মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। বিয়ের প্রলোভনে বিভিন্ন সময় ইমন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও স্থাপন করে। কিন্তু বিয়ের কথা বললে তার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় ইমন। উপায়ন্তর না দেখে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই তরুণী।

আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “ইমনের সঙ্গে সম্পর্ক স্কুল লাইফ থেকে। সে আমাকে আসতে বলছিল, আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু এখন সে বিয়ে করতে চাচ্ছে না। সে আমাদের বাসায় গিয়ে আমার বাবাকে বলেছিল, আমি এক বছর খরচ দেব, আপনার মেয়েকে আপনি রাখেন। বাবা বলেছিল, ‘একটা মেয়েকে তো এক বছর রাখা সম্ভব নয়। তোমার বাসায় গিয়ে কথা বলো। যদি সে রকম হয় বিয়ে ঠিক করে রাখব।’ কিন্তু সে তার বাসায় কোনো কথা বলেনি। তারপর থেকে ভালোমতো আমার সঙ্গে কথা বলে না। সে ফোনে আমাকে বলেছে তুমি আমাকে ব্লক দাও, আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই না। আমি বলছি, তুমি যেটা চাইছো সেটা পাইছো এজন্য কি কথা বলবে না। তখন বলে, হ্যাঁ। তারপর আর কথাবার্তা হয় না। তাই বাধ্য হয়ে আমি এখানে আসছি। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। এখন আমাকে তাদের বাসা থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। সে আমাকে বিয়ে না করলে আমার মরণ ছাড়া তো কোনো উপায় নেই।”

ইমনের বাবা ইসিম সরকার বলেন, হঠাৎ করে মেয়েটি এসে বাড়িতে বলছে, আমি ইমনকে চাই, ইমনকে আমি ভালোবাসি। এখন যদি তাদের মাঝে সম্পর্ক থাকে, তাহলে বিয়ে হবে। কিন্তু এখন আমার ছেলেকে খুঁজেই পাচ্ছি না। ইউপি সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, ইসিম সরকার আমাকে ডেকে নিয়ে বলল, মেয়েটাকে তোমার বাসায় রাখ। আমি আত্মীয়স্বজনকে ডেকে একটা সমস্যার সমাধান করব। তার কথায় মেয়েটাকে বুঝিয়ে নিয়ে এলাম। কিন্তু এরপর থেকে তিনি পাত্তাই দিচ্ছেন না। মেয়েটাকে তো এভাবে রাখা যাবে না, বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে হবে।

হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, ঘাসুড়িয়া গ্রামে বিয়ের দাবিতে ইমনের বাড়িতে আয়শা নামে এক মেয়ে আসছে বলে শুনেছি। তাদের মাঝে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। কেউ আইনগত সহায়তা চাইলে তাকে সহায়তা করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত