দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভবনের অপেক্ষায় রয়েছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের ৮২ নম্বর আদমপুর বেগম আম্বর আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির বয়স প্রায় ৩৭ বছর হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের ছাদ ও পিলারের বিভিন্ন অংশের ইটের আস্তরণ উঠে গেছে। কোথাও কোথাও খসে পড়ছে ভবনের অংশবিশেষ। দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামোর কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। বৃষ্টির পানি টিনের চাল ও জানালা দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে। এতে ভিজে যায় শ্রেণিকক্ষের মেঝে এবং স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। বৃষ্টির সময় শিশুদের নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয় শিক্ষকদের।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মাহমুদা খাতুন জানান, ভবনটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছাদ ও পিলার থেকে ইটের আস্তরণ খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢোকার সমস্যাও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি মাঠ নিয়েও রয়েছে ভোগান্তি। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে যায়। পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সমাবেশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অভিভাবক শামীম মিয়া বলেন, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। পুরোনো ভবনের পাশাপাশি বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢোকে এবং মাঠেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটি খাল। খালের সঙ্গে বিদ্যালয় এলাকার কোনো সীমানাপ্রাচীর না থাকায় ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে বিদ্যালয় ছুটির সময় অসাবধানতাবশত কোনো শিক্ষার্থী খালের দিকে চলে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ভূঞা সবুজ বলেন, বিদ্যালয়ের পাশেই খাল থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় উদ্বেগ থাকে। খালের পাশে একটি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হলে শিশুদের নিরাপত্তা অনেকটাই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, বিদ্যালয়টির ভবনের অবস্থা, মাঠের জলাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি জরাজীর্ণ অংশ সংস্কার, মাঠের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং খালের পাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।