ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের ঘটনায় নিহতের তথ্য যাচাই করছি: বিভাগীয় কমিশনার

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৫ এএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছড়ানো মৃত্যুর তথ্যটি বিভাগীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফট কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার পর রোগীর স্বজনদের হুড়োহুড়িতে বেশ কয়েকজন নিহত বা আহত হওয়ার তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার স্পষ্ট করেছেন যে, ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর তথ্যের স্বপক্ষে এখনো কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি এবং সঠিক তালিকা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

একটি টেলিভিশনে ছয়জন মারা যাওয়ার তথ্য প্রচার হওয়ার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে বলা উচিত নয়। আগে তথ্য নিশ্চিত হতে হবে। নিশ্চিত না হয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগের যে তালিকা আমাকে দেখানো হয়েছে, সেখানে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নেই। আমার কাছে আরও একটি তালিকা আছে, সেটিও যাচাই করে দেখব। মর্গের তথ্যও নেওয়া হয়েছে। তবে মর্গের তথ্যের সঙ্গে পাওয়া অন্য তথ্যের মিল নেই। সব তথ্য মিলিয়ে দেখার পরই প্রকৃত সংখ্যা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

এরপর রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন তালিকা যাচাই করছি এবং যাঁদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তবে এখনো আমাদের হাতে কোনো কনক্রিট এভিডেন্স (সুনির্দিষ্ট প্রমাণ) আসেনি।’ ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য কীভাবে এসেছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেভাবে শুনেছেন, আমরাও সেভাবেই শুনেছি। এখন সেই তথ্যই যাচাই করার জন্য সবাই সরেজমিনে এসে তদন্ত করছি। তথ্য নিশ্চিত হলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, আগুন ও ধোঁয়া দেখে রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় কয়েকজন আহত হয়েছে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পান। ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। ১০টি ইউনিট একসঙ্গে ঘটনাস্থলে আসে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমের কন্ট্রোলার মেশিনের সঙ্গে থাকা বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী আরও বলেন, লিফট কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগায় ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আগুন বড় না হলেও ধোঁয়া দেখে মানুষের মধ্যে বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়।  আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অতিরিক্ত ইউনিটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্পতৃক্ষের পক্ষ থেকে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়। হাসপাতালের নতুন ভবনে দুর্ঘটনার সময় দ্রুত বের হওয়ার জন্য এবং বাইরে থেকে উদ্ধার কাজে আসার জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ভবনটির একটি সিঁড়ি খোলা ছিল। অন্য চারটি সিঁড়ি থাকলেও সেগুলো সবসময় তালা বন্ধ করে রাখা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত