জুলাই বিপ্লবের চেতনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চলমান সংবিধান সংশোধনের কাজ শেষ হলেই এর কাক্সিক্ষত সুফল দৃশ্যমান হবে।
গতকাল সোমবার ভোলা সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের বিদায় হয়েছে। প্রায় দুই বছর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ বিএনপিকে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট দিয়েছে। নতুন সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, হত্যা, গুম, অর্থ পাচার ও রেকর্ড দুর্নীতির কারণে দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে ছিল। এই ভগ্নদশা থেকে দেশকে টেনে তুলতে সময়ের প্রয়োজন। তবে মাত্র সাত মাসেই নতুন সরকার উন্নয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্ক বজায় থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ভারত পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের দেশে আশ্রয় দিয়েছে এবং সেখান থেকে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার, কিন্তু তাদের আচরণে সেই আন্তরিকতা প্রকাশ পাচ্ছে না; কেবল কূটনৈতিক কথাবার্তাই চলছে। আমরা আশা করব, পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্ক বজায় থাকবে।
তিনি ভারতসহ বিশ্বের সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।