মেডিকেল কলেজে দেহদান করলেন লিটন দাস

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষা ও গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য মরণোত্তর দেহদান করেছেন নবীগঞ্জের লিটন দাস তালুকদার।

লিটন দাসের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসাধীন গত রবিবার নবীগঞ্জের শিবপাশা গ্রামের নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছাত্রজীবনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, লিটন দাস বিশ্বাস করতেন মৃত্যুর পর তার দেহটি না জ্বালিয়ে বা না পঁচিয়ে যদি মানবকল্যাণে ব্যবহার হয়, তাহলেই জীবন সার্থক হবে। তার দেহ ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গবেষণা করে অনেক মেডিকেল শিক্ষার্থী বড় ডাক্তার হয়ে সমাজের চিকিৎসাসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবে। এতে মানবজাতি অনেক উপকৃত হতে পারে। তাই সামাজিক বিভিন্ন বাস্তবতাকে অতিক্রম করে এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা ও গবেষণাকাজের জন্য মরণোত্তর দেহদান করলেন। তার বাবা মৃত দ্বিজেন্দ্র দাস তালুকদার ও মাতা রেখা রানী দাস।

লিটন দাস দ্রুত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন বুঝতে পেরে গত ১৩ আগস্ট নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তার মৃতদেহ যেন হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণাকাজে ব্যবহৃত হয়, এ মর্মে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ঘোষণাপত্রটি হস্তান্তর করেন। রবিবার সকালে লিটন দাসের মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাবেদ জিল্লুল বারী, অ্যানাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব, হিসাবরক্ষক সূর্য লাল রায়, ক্যাশিয়ার নারায়ণ পাল, লিটন দাসের বড় ভাই দিপু দাস, বাসদ হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট সবুজ দাস ছুটে যান।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিসহ আইনি প্রক্রিয়া সম্পাদন শেষে রাতে লিটন দাসের বড় ভাই দিপু দাস ও তার আত্মীয়স্বজনরা মৃতদেহটি হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ বলেন, লিটন দাসের এমন পরোপকারী সাহসী সিদ্ধান্ত আমাদেরও মানবিক হওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত