কলা বিক্রি ২০০ কোটি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৯ এএম

দেশের শীর্ষ খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী জেলা দিনাজপুরের দশমাইলে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম কলার হাট জমে উঠেছে। গত বছরের তুলনায় কলার দাম কম হওয়ায় কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। চাষিরা জানান- গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বাজারে কলার সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। তবে সামনে দাম বাড়ার কথা জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

দিনাজপুরের সুস্বাদু কলার খ্যাতি দেশজুড়ে। এখানে সাগর, শবরি, মালভোগ ও চিনিচম্পাসহ বিভিন্ন জাতের কলা চাষ হয়। তবে এবার কলার দাম গতবারের চেয়ে কম হওয়ায় কিছুটা লোকসানে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। জেলার কাহারোল উপজেলার দশমাইল মোড়ে বসে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম কলার হাট। প্রতিদিন রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নীলফামারী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা এখানে কলা নিয়ে আসেন। সকাল ৮টার মধ্যেই শেষ হয় কেনাবেচা। এরপর পাইকারদের মাধ্যমে ট্রাকে করে এই কলা চলে যায় ঢাকা, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি বাজারে। বিশাল এই কলার হাটকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সরেজমিন দশমাইল কলার হাটে দেখা যায়, হাটজুড়ে সারি সারি কলার কাঁদি সাজানো রয়েছে। ভোর থেকে জেলার ১৩ উপজেলাসহ ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী জেলার কলা চাষি ও ব্যবসায়ীরা ভ্যান ও বিভিন্ন যানবাহনে করে কলা নিয়ে আসছেন। পাইকারদের সঙ্গে দরকষাকষির পর অনেক ক্ষেত্রেই ভ্যানের ওপর থেকেই কলা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

কলা চাষি আশরাফুল বলেন, ‘যে কলা গত বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। সেই কলা এবার ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম কমে গেছে। এ বছর কলা বিক্রি করে লোকসান হয়েছে’। ঢাকা থেকে আসা কলা ব্যবসায়ী তালুকদার হোসেন বলেন, ‘ভালো মানের কলার দাম তুলনামূলক বেশি। আমি প্রতিদিন এই হাট থেকে ৩ থেকে ৪ ট্রাক কলা কিনে ঢাকায় পাঠাচ্ছি। তবে ঢাকায় কলার চাহিদা কম হওয়ায় বিক্রিও কম হচ্ছে। এই কারণে দশমাইলের হাটেও কলার দাম কমে গেছে।’ ফেনীর কলা ব্যবসায়ী মো. জালাল উদ্দীন এ হাট থেকে নিয়মিত পাইকারি কলা কেনেন। তিনি বলেন, ‘এক মাস আগে কলার দাম আরও বেশি ছিল। এখন দশমাইল কলার হাটে কলার জোগান বেশি হওয়ায় আগের তুলনায় একটু দাম কমেছে।’

দশমাইল কলার হাটের ইজারাদার শামিম জানান, মৌসুমে প্রতিদিন ১ কোটি টাকার ওপরে কলা বিক্রি হয়। প্রতিদিন গড়ে ২০টি ট্রাক লোড হয়। মৌসুমে এ হাটে লোড-আনলোডের কাজ করেন অন্তত ১০০ শ্রমিক। এ ছাড়া কিছু ব্যবসায়ী সরাসরি ক্ষেত থেকে কলা কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছরে খরিপ-১ ও রবি মৌসুমে জেলায় কলার আবাদ হয়েছে ১ হাজার ২৫৯ হেক্টর জমিতে। দশমাইলের কলার হাটে ৪ মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কলা কেনাবেচা হবে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দশমাইলের কলার হাট থেকে প্রতিদিন বহু গাড়ি বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। গত বছর চাষিরা কলার দাম ভালো পেয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর কলার দাম একটু কম। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কলার দামও বাড়বে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত