আর্থিক বিরোধের জেরে স্ত্রী হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২২ এএম

রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে স্বামী মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে মিনারকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৪)। গত বৃহস্পতিবার রাতে কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নিহত নারীর প্রথম স্বামী প্রায় ১৪ বছর আগে মারা যান। প্রায় ছয় মাস আগে মনিরুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা কিছুদিন বনানী এলাকায় বসবাস করেন। চলতি মাসের শুরুতে শাহ আলীর চিলড্রেন পার্কসংলগ্ন ওই বাসায় ভাড়ায় ওঠেন তারা। নিহত নারী গ্রামের বাড়িতে জমি বন্ধক রেখে ৭০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। ওই টাকা নেওয়ার জন্য মনিরুল তাকে চাপ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মনিরুল তার ওপর নির্যাতন চালাতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি, মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে চাকু দিয়ে স্ত্রীর গলায় আঘাত করেন মনিরুল। এতে ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পাবনায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ (৫৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন ও খুলনায় সন্ত্রাসী ডালিমকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তারের বিষয়েও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ডাঙ্গামারি গ্রামের স্থানীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ নিখোঁজ হন। ব্যবসা সূত্রে তার কাছে সব সময় নগদ টাকা-পয়সা থাকত বলে জানা যায়। নিখোঁজের পরের দিন ৮ সেপ্টেম্বর পুকুরে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রেখে যায়। পরে নিহতের স্বজন বাদী হয়ে পাবনার সাঁথিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজন চার ব্যক্তির খোঁজ পায়। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারী এবং প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে বাঘাকে নরসিংদী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাঘা স্বীকার করেন, তিনি একটি নিষিদ্ধ সর্বহারা গ্রুপের নেতা। ২৫ হাজার টাকার লোভে তারা চারজন মিলে পরিকল্পনা করে ব্যবসায়ী আজিজকে হত্যা করেন। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে গ্রেপ্তার বাঘাকে পাবনার সাঁথিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, খুলনার লবণচোরা এলাকায় সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ডালিম খান, তার দুই সহযোগী মো. রানা ও আব্দুল্লাহ আল নোমান ওরফে নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ডালিম খান দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করে আসছিল। খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সহিংসতাসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে খুলনার লবণচরা থানায় অস্ত্র আইনে নতুনভাবে মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্র-গুলিসহ তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত