দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা না গেলেও হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু হয়নি। তবে এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭৪৭ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পৃথক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে ৫২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জন। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৪৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জনে।
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হাম উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮ জন। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও হাম উপসর্গ নিয়ে ৯৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭৯ জন; যা মাসের হিসাবে চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এ রোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৬১ জন ভর্তি হয়েছেন, দক্ষিণ সিটিতে ভর্তি হয়েছেন ৪০ জন। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১৬ জন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২৫, চট্টগ্রামে ১৮০, খুলনায় ৮১, ময়মনসিংহে ৯২ এবং রংপুরে ৫২ জন ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর ৫৯ হাজার ১৪৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ৫৪ হাজার ৮৩৮ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।