যে সাত সিনেমা দর্শক হৃদয়ে

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটেছিল তার। ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকাই সিনেমার চিরসবুজ নায়ক সালমান শাহর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটের দারিয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, যিনি পরে রুপালি পর্দায় সালমান শাহ নামে তৈরি করেছিলেন নিজস্ব এক স্বর্ণযুগ। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রে যে আলোড়ন তিনি তুলেছিলেন, তিন দশক পার হয়েও তার তেজ কমেনি একটুও। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অকালে বিদায় নিলেও তার ফ্যাশন, অভিনয় ও সিনেমার গান আজও সমভাবে প্রাসঙ্গিক। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে জনপ্রিয়তার বিচারে সাত সিনেমা দর্শকের মনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। লিখেছেন তারেক আনন্দ

কেয়ামত থেকে কেয়ামত

১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন সালমান। প্রথম ছবিতেই মৌসুমীর সঙ্গে তার রসায়ন আর জনপ্রিয় গানগুলো দর্শকের মন জয় করে নেয়। সে সময় আনুমানিক সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যবসা করে ছবিটি সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

স্বপ্নের ঠিকানা

১৯৯৫ সালে এম এ খালেক পরিচালিত ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ বাণিজ্যিকভাবে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে। শাবনূরের সঙ্গে তার রসায়ন এই ছবিকে সে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল সিনেমার তালিকায় পৌঁছে দেয়, যার আনুমানিক আয় ধরা হয় প্রায় ১৯ কোটি টাকা।

সত্যের মৃত্যু নেই

সালমানের প্রয়াণের মাত্র এক সপ্তাহ পর, ১৯৯৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘সত্যের মৃত্যু নেই’। আলমগীর, শাবানা ও রাজীবের মতো তারকাদের উপস্থিতিতে নির্মিত এই ছবি দর্শকের আবেগের সঙ্গে মিশে গিয়ে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকার ব্যবসা করে।

তোমাকে চাই

একই বছর মুক্তি পাওয়া মতিন রহমানের ‘তোমাকে চাই’ ছবিতে সালমান-শাবনূর জুটির প্রেম ও আবেগঘন অভিনয় দর্শককে গভীরভাবে উদ্বেলিত করে। পরবর্তী সময়েও ছবিটি বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে একাধিকবার প্রদর্শিত হয়েছে।

আনন্দ অশ্রু

মৃত্যুর পর ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘আনন্দ অশ্রু’ সালমান-শাবনূর জুটির অন্যতম স্মরণীয় কাজ হিসেবে জায়গা করে নেয়। এতে কাঞ্চির অভিনয়ও দর্শকনন্দিত হয়।

জীবন সংসার

১৯৯৬ সালের ১৮ অক্টোবর মুক্তি পায় জাকির হোসেন রাজুর ‘জীবন সংসার’। এতে জনপ্রিয় তারকা জুটি ফারুক ও ববিতার সঙ্গে সালমানের ‘সবুজ আহমেদ’ ও শাবনূরের ‘শেলি’ চরিত্রের অভিনয় প্রশংসিত হয়। এরপরও বিভিন্ন সময়ে প্রেক্ষাগৃহে পুনঃপ্রদর্শনের পর নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পায় ছবিটি।

মায়ের অধিকার

অন্যদিকে, একই বছরের ৬ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া শিবলী সাদিকের ‘মায়ের অধিকার’ ছবিতে মায়ের প্রতি সন্তানের দায়বদ্ধতার এক ভিন্ন আঙ্গিক ফুটিয়ে তোলেন সালমান। শাবনাজ, আলমগীর ও হুমায়ুন ফরীদির উপস্থিতিতে নির্মিত এই পারিবারিক ড্রামাটি তার গতানুগতিক রোমান্টিক ভাবমূর্তির বাইরে এক বিশেষ দ্যুতি ছড়িয়েছিল।

মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ ছিলেন যেন এক জাদুকর, রোমান্টিক থেকে পারিবারিক, অ্যাকশনধর্মী, সব চরিত্রেই মানিয়ে নিয়েছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটলেও, জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীর চর্চায় তিনি আজও সমানভাবে ফিরে আসেন। কোনো নির্দিষ্ট প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, সময়ের সীমানা পেরিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অবিনশ্বর অধ্যায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত