চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. বেলায়েত হোসেন বলেছেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও রূপটপ সোলার প্যানেল বসানোকে আইনের মাধ্যমে বাধ্যবাধকতায় পরিণত করতে জাতীয়ভাবে গণর্পূত, স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরীকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক নগরী, সবুজ ও নান্দনিক নগরীতে রূপান্তরিত করতে কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। পাহাড় ও সমুদ্র বেষ্টিত এই অপার সৌন্দর্যময় চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা, যানজট ও দুষণমুক্ত এবং সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা সম্বলিত পরিকল্পিত বাসযোগ্য শহর হিসাবে গড়ে তুলতে চাই।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ব্যবসাবান্ধব পরিকল্পিত নগরায়ন বাস্তবতা ও প্রত্যাশাঃ প্রেক্ষাপট- বৃহত্তর চট্টগ্রাম এলাকার খসড়া মহাপরিকল্পনা (২০২৫-২০৫০) শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন- ২০২৫-২০৫০ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরের একটি মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কাজ করছে সিডিএ। মাস্টার প্ল্যান এ কোথায় স্কুল হবে কোথায় হাসপাতাল হবে এবং কোথায় শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকা হবে তা উল্লেখ থাকবে। কিভাবে এ মাস্টার প্ল্যানকে আরও কার্যকর করা যায় সেই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সিডিএতে জনবল সংকটসহ নানা সমস্যা থাকলেও ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে যেকোন বিষয়ে ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে। ভবনের ডিজাইন অনুমোদনের জন্য এখন আর মাসের পর মাস ঘুরতে হবে না। সর্বোচ্চ ৩০-৪৫ দিনের মধ্যে ভবনের ডিজাইন অনুমোদন দেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিল্প কারখানা করার ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বাসা বাড়ীর সামনে ময়লা ফেললে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা এবং বিল্ডিং কোড ও
ডিজাইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারী জানান।
চট্টগ্রামে আগ্রাবাদ এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ে র্যাম্প ও লুপ নির্মাণের জন্য নতুন করে প্রকল্প নেওয়ার বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, সিডিএকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানকে সমান চোখে দেখতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এক আইন আর প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের জন্য অন্য আইন হলে চলবে না। তিনি বলেন, রাস্তার পাশে কিংবা ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকানগুলো ভ্যাট, ট্যাক্স প্রদান করে না, কিন্তু তাদের কারণে যানজট যেমন হচ্ছে তেমনি সরকারও রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তাই তাদের পুনর্বাসন করে হকার মুক্ত ফুটপাত ও সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। মাস্টার প্ল্যানে শিল্প কারখানা, স্কুল, হাসপাতাল নির্মাণের ক্ষেত্রে জোনভিত্তিক প্ল্যানিং করা জরুরী। যাতে শিক্ষা জোনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই হয়, হাসাপাতাল জোনে হাসপাতাইল হয়। পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন শিল্প কারাখানা গড়ে তুলতে জোনভিত্তিক ডিটেইল ম্যাপিং করা প্রয়োজন।
মত বিনিময় সভায় চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ বলেন, মাস্টার প্ল্যানের খসড়ায় গণকবর, রূপটপ সোলার প্যানেল বসাানো এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা ও স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং এর সন্নিবেশ মাস্টার প্ল্যানকে আকর্ষণীয় করবে।
সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আউটার রিং রোড ৮ লেইন করা প্রয়োজন। কারণ বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী-কর্ণফুলী টানেল কোস্টাল রোড প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই সড়কের উপর চাপ আরও বাড়বে। তিনি মিরসরাই থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাহাড়ের ভ্যালিগুলোকে বৃষ্টি পানি সংরক্ষণের আওতায় আনা, সদরঘাট থেকে কর্ণফুলী ব্রিজ পর্যন্ত তীরবর্তী ওয়াকওয়ে নির্মাণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ আল-আমিন মাস্টার প্ল্যানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বিকেন্দ্রীকরণ এবং রূপটপ সোলারের মাধ্যমে কার্বন ট্রেডিং ও আরবার গ্রিন এরিয়া বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. কামাল হোসেন, চুয়েটের সহকারী অধ্যাপক তন্দ্রা দাশ, চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. এ. ছালাম, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, রাশিয়ার অনারারী কনসাল স্থপতি আশিক ইমরান, চেম্বার পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, এস. এম. সাইফুল আলম, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও শহীদুল আলম, চেম্বারের সাবেক পরিচালক ড. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, এস. এম. আবু তৈয়ব ও ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন, পেডরোলো এন কে লিঃ এর চেয়ারম্যান নাদের খান, শান শাইন গ্রামার স্কুল এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান সাফিয়া গাজী রহমান প্রমুখ।