বাসের ধাক্কায় পোশাক কারখানার কর্মকর্তা নিহত

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০০ পিএম

রাজধানীর তুরাগ থানার ধউর এলাকায় বাসের ধাক্কায় মীর জালাল আহমেদ (৫০) নামে এক পোশাক কারখানার কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তিনি পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুতে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হলেও ঘটনার তিন দিন পরও ঘাতক বাসের চালককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর এনা পরিবহন কর্তৃপক্ষও তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।

নিহত মীর জালাল আহমেদ ধউর এলাকার বাসিন্দা। তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানার খান মোহাম্মদ রোড এলাকার এ কে সোয়েটার কারখানায় জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পদে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ধউর বেড়িবাঁধ এলাকায় বাসের অপেক্ষায় ছিলেন মীর জালাল আহমেদ। এ সময় এনা পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০৩১০) তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে তুরাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই দিন নিহতের ছেলে আনিসুর রহমান বাদী হয়ে তুরাগ থানায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১২, তারিখ ১৬-০৯-২০২৬।

পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে গেলেও এর চালককে এখনো শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এনা পরিবহন কর্তৃপক্ষ কিংবা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের ছেলে আনিসুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার বিবরণ ও ঘাতক বাসের ভিডিও প্রকাশ করে বাবার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ এবং পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক বাসচালককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত