বিশ্ব শান্তি দিবস

বৈশ্বিক ঐকমত্য নিশ্চিত করতে পারে বিশ্ব শান্তি

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৪ এএম

পৃথিবীব্যাপী মানুষের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব শান্তি দিবস পালিত হয়। এবারের শান্তি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো, ‘শান্তিতে বিনিয়োগ করুন সকলের জন্য, সর্বত্র, প্রতিদিন।’ দ্বন্দ্ব, সংঘাত ও বিশ্বব্যাপী আগ্রাসন সম্পর্কে সচেতন তরুণ শিক্ষার্থীরাও। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন তাদের অভিমত

শুভবুদ্ধি ও কল্যাণচিন্তার উদয় হোক

পৃথিবীব্যাপী মানুষের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব শান্তি দিবস পালিত হয়। এবারের শান্তি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘শান্তিতে বিনিয়োগ করুন সকলের জন্য, সর্বত্র, প্রতিদিন।’ শান্তি দিবসকে উপলক্ষ করে বিভিন্ন ধরনের সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে মানুষের মাঝে শান্তির বাণী পৌঁছানো হয়। কিন্তু আমরা যদি শান্তির মর্মবাণী দ্বারা একান্তভাবে অনুপ্রাণিত না হই, কিংবা বিবেকবোধ তাড়িত না হই, তাহলে বিস্তৃত পরিসরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। বর্তমান পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মূল কারণ শুভবুদ্ধি ও কল্যাণচিন্তার অভাব। যুদ্ধ বন্ধ করতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতামূলকভাবে জ্ঞান ও বুদ্ধির চর্চা করতে হবে এবং যেকোনো আন্তঃদেশীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রাপ্য সমতা বিধানের পক্ষে থাকতে হবে। মহাকাশ গবেষণা ও সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য কাজ করে যেতে হবে। অদূর ভবিষ্যতে সম্ভাব্য খাদ্যসংকট মোকাবিলায় খাদ্যশস্য নিয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক উপায় খুঁজতে হবে। অস্বাভাবিকভাবে অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্র বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধ করতে হবে।

মো. জাহিদ হাসান

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

শান্তির পথে সহমর্মিতার সেতু

বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক অবিশ্বাস মানবসভ্যতার অস্তিত্বকে সংকটে ফেলেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত কেবল সেই দেশগুলোর নয়, সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও অর্থনীতিকে বিপন্ন করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমার অভিমত হলো কূটনীতি ও সংলাপই সর্বোত্তম পথ। যুদ্ধ কখনো স্থায়ী সমাধান দেয় না; বরং শত্রুতা ও ক্ষোভের বীজ বপন করে। প্রথমত, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আরও শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো দেশের স্বার্থরক্ষার বদলে মানবতার স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্বন্দ্ব কমাতে সহায়ক হতে পারে। তৃতীয়ত, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে ভিন্ন দেশের মানুষকে জানার সুযোগ তৈরি হলে ঘৃণা কমবে। চতুর্থত, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক প্রচার বন্ধ করতে হবে। শান্তি কেবল চুক্তি বা সম্মেলনের বিষয় নয়; এটি সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায্যতার ফসল। প্রত্যেক দেশের উচিত নিজের স্বার্থের পাশাপাশি অন্যের অস্তিত্বের অধিকারকে সম্মান করা। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, যুদ্ধের চেয়ে সংলাপ শ্রেষ্ঠ এই উপলব্ধি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারলেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

সাহাফ আদনান

শিক্ষার্থী, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বশান্তির পথে মানবিক সমাধান

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা আজ মানবজাতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন দেশের মধ্যে যুদ্ধ, রাজনৈতিক বিরোধ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ধর্মীয় ও জাতিগত সংঘাত এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তাই যুদ্ধ নয়, শান্তিপূর্ণ সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, আন্তর্জাতিক বিরোধ নিরসনে প্রথমেই সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচার ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো সংকটকে সামরিক শক্তির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা না করে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতা ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং সব দেশের জন্য আন্তর্জাতিক আইন সমভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধের পেছনের কারণগুলোও চিহ্নিত করা জরুরি। দারিদ্র্য, বৈষম্য, সম্পদ নিয়ে বিরোধ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘন দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতার প্রসারও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশের নিরাপত্তা অন্য দেশের অশান্তির ওপর স্থায়ী হতে পারে না। পারস্পরিক সহযোগিতা, ন্যায়ভিত্তিক সমঝোতা ও মানবিকতার চর্চার মাধ্যমেই পৃথিবীকে যুদ্ধের ভয় থেকে মুক্ত করে শান্তির আবাসে পরিণত করা সম্ভব। বৈশ্বিক ঐকমত্য নিশ্চিত করতে পারে বিশ্ব শান্তি। এজন্য রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাইফুদ্দীন সিদ্দীক

শিক্ষার্থী, দা’ওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

যুদ্ধ বন্ধ হোক

চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বিশ্বজুড়ে মানবজাতির অস্তিত্বকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। কয়েকটি দেশের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ কখনোই শুধু সেই দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এর প্রভাব দেশের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। ফলে বিঘ্নিত হয় বিশ্বশান্তি, সংকটাপন্ন হয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন। যুদ্ধ কখনো শান্তি এনে দিতে পারে না, বরং এর ফলে সৃষ্টি হয় ধ্বংস, রক্তক্ষরণ, প্রাণহানি, অর্থনৈতিক সংকট ও মানবিক বিপর্যয়। তাই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধ নয়, দেশে দেশে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। যুদ্ধরত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সহানুভূতির মনোভাব তৈরি করতে হবে। যেকোনো বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশকে এগিয়ে এসে যুদ্ধকবলিত মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সর্বোপরি, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি মানুষকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে।

মাহমুদা ইসলাম স্বর্ণালী

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত